২২, অক্টোবর, ২০২০, বৃহস্পতিবার

সাইফুর যেভাবে সন্ত্রাসী ও ধর্ষক হয়ে ওঠে

সাইফুর রহমান। যার চেহারার মধ্যেই ফুটে আসে ভয়ংকর এক সন্ত্রাসীর সংস্করণ। এমসি কলেজ ও ছাত্রাবাসে এমন কোনো অপকর্ম নেই যেখানে তার হাত ছিল না। ছাত্রাবাসে অবৈধ সিট দখল, সিট বাণিজ্য, খাবারের টাকা না দেয়া, ক্রীড়া সামগ্রীর জিনিসপত্র বিক্রি করে দেয়া, সাধারণ ছাত্রদের হয়রানি, মারধর, গালাগালি, মিছিল মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা ছিল তার নিত্যনৈমিত্তিক কাজ

ছাত্রাবাসের পাশের বাজার বালুচরে সে কখনো টাকা পরিশোধ করত না। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে সে দলবল নিয়ে রেস্টুরেন্টে ও বিভিন্ন দোকানে খাওয়া দাওয়া করত। তার বিরুদ্ধে বাকিতে খাওয়ার এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভয়ে এতদিন চুপসে ছিলেন সেখানের ব্যবসায়ীরা।

শুধু রেস্টুরেন্টে নয়, সাইফুর টিলাগড় ও বালুচরের সেলুনগুলোতে টাকা না দিয়েই চুল ও দাড়ি কাটত। টাকা চাইলে দোকান ভাঙচুরের ভয় দেখাতো। এত গেল তার ছাত্রাবাসের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের আমলনামা।

ভয়াল সেই রাতের বর্ণনা দিলেন ধর্ষিতা বধূ

এবার আসি কলেজ ক্যাম্পাসে সে কি করতো! কলেজের এমন কোনো নিয়মিত ছাত্রী নাই যে তাকে আজরাইলের মতো ভয় পেতো না! ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রীদের ইভটিজিং করা ছিল তার নেশা।

এ ব্যাপারে এমসি কলেজের এক ছাত্রী জানায়, সাইফুর একবার তাকে ধর্ষণের ভয় দেখিয়েছিল। তারপর থেকে দেড় বছর ক্যাম্পাসে আসেনি সেই ছাত্রী। আসলেও হাত মোজা কিংবা বোরকা পড়ে চুপিসারে আসতো!

সিগারেট কিনতে যাওয়াই কাল হলো

মেয়েদের ওড়নায় টান দেয়া ছিল তার খুব সাধারণ একটি কাজ। তার কর্মকাণ্ড নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগ এর দুটি পক্ষ বিব্রত থাকলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা কখনোই নেয়া হয়নি। সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাইফুরের বিরুদ্ধে প্যান্টের বেল্ট খুলে মারধরের অভিযোগও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র জানান, ২০১৮ সালে তিনিসহ তার বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ভবনের সামনে। এ সময় সাইফুর এসে তাদের সঙ্গে থাকা মেয়ে বন্ধুটিকে উত্যক্ত করেন। সবাই প্রতিবাদ করলে সাইফুর সবাইকে বেধড়ক প্যান্টের বেল্ট দিয়ে পেঠাতে থাকে।

এমসি কলেজে গণধর্ষিতা সেই তরুণী যেমন আছেন​

মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে নিয়মিত মহড়া দিতো সাইফুর। ইচ্ছা করেই সে অনেক ছেলেমেয়েদের ধাক্কা দিতো। শুধুমাত্র ভয়ে কেউ কিছু বলেননি। তাকে যারা লালন পালন করতো তাদের কাছেও অভিযোগ দিয়ে কোনো প্রতিকার পাওয়া যেত না।

করোনার পূর্বে প্রতিদিনই এমসি কলেজের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে শত শত মানুষ আসতেন। সেখানেও বিভিন্ন পন্থায় দল নিয়ে ছিনতাই করতো সাইফুর! ছিনতাইয়ের টাকা দিয়ে মাদক সেবন করতো তার দখলকৃত ছাত্রবাসের বাংলাতো।

স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে ধর্ষণ করল ছাত্রলীগের কর্মীরা

সর্বশেষ সে গত শুক্রবার যে কাজটি করেছে সবাই তা জেনে গেছেন। এর আগেও সাইফুর ও তার গংদের দ্বারা অনেক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার সকালে ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় সুনামগঞ্জের ছাতকে সাইফুর গ্রেপ্তার হয়েছে। অনেকেই স্বস্তি পাচ্ছেন। এই স্বস্তি যাতে জীবনভর সবাই ফেলতে পারেন সেই ব্যবস্থাই প্রশাসন করবে বলে সবার বিশ্বাস।

সর্বশেষ নিউজ