২৪, অক্টোবর, ২০২০, শনিবার

মেসি ছিলেন নিজের ছন্দে

এর মাঝে তো কত কিছুই তো হয়ে গেল! মেসি-রোনালদোর সাম্রাজ্যে হানা দিলেন লুকা মদরিচ। ফ্রান্স জিতল দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। মেসিদের ছেড়ে নেইমার চলে গেলেন পিএসজিতে। বার্সার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ জিতল হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা। এত সব অনিশ্চয়তার মাঝে সেলতার মাঠে মেসিদের পয়েন্ট হারানো যেন এক রকম নিশ্চিত ছিল এত দিন। গেরো অবশেষে কাটাতে পেরেছে বার্সেলোনা। গত রাতে সেলতা ভিগোর মাঠ থেকে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে কাতালান ক্লাবটি। গোল করেছেন উইঙ্গার আনসু ফাতি ও রাইটব্যাক সের্হি রবের্তো। বাকি গোলটি সেলতার ডিফেন্ডার লুকাস ওলাসার আত্মঘাতী।

২০১৪-১৫ মৌসুমে সবশেষ সেলতাকে বালাইদোসে হারিয়েছিল বার্সা, ১-০ গোলে। সেবার গোলটা এসেছিল মেসি, নেইমার বা সুয়ারেজ নন—এক ডিফেন্ডারের পা থেকে। ফরাসি ডিফেন্ডার জেরেমি ম্যাথিউ এরপর বার্সা ছেড়ে স্পোর্তিং লিসবন হয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দিয়েছেন, তাও বালাইদোসে বার্সার জয় আসেনি। পরের মৌসুমের ম্যাচগুলোর স্কোরলাইন ছিল ৪-১, ৪-৩, ২-২, ২-০ ও ২-২। এমনকি গত মৌসুমেও জোড়া গোল করে দলকে বাঁচাতে পারেননি সুয়ারেজ। শেষ মুহূর্তে সেলতা অধিনায়ক ইয়াগো আসপাস গোল করে ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেন। বালাইদোসে বার্সার জয়হীন পাঁচ লিগ ম্যাচের প্রত্যেকটায় গোল করেছিলেন আসপাস। সে আসপাসই গত রাতে ছিলেন নিশ্চুপ। তাঁর পা থেকে গোলও আসেনি, সেলতারও পাওয়া হয়নি পয়েন্ট।

বৃষ্টিভেজা মাঠে ১১ মিনিটেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। গোল করে আবারও নিজেকে ঘিরে চলতে থাকা উন্মাদনার যথার্থতা প্রমাণ করেছেন ১৭ বছর বয়সী স্প্যানিশ উইঙ্গার আনসু ফাতি। ফিলিপ কুতিনিওর পা থেকে আসা বল দুর্দান্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ডান পায়ের শটে গোলরক্ষক ইভান ভিয়ারকে পরাস্ত করেন তিনি। লিগের প্রথম ম্যাচে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন এই তরুণ। ফলে দুই ম্যাচে এ নিয়ে ৩ গোল হয়ে গেল তার। এই গোল করে আরেকটি রেকর্ডের খুব কাছাকাছি চলে এসেছেন ফাতি। নিজের অষ্টাদশ জন্মদিনের আগে বার্সার জার্সি গায়ে সবচেয়ে বেশি লিগ গোল করার রেকর্ডে আরেক স্প্যানিশ উইঙ্গার বোয়ান কিরকিচের সঙ্গে ভাগ বসিয়েছেন ফাতি। ফাতি আঠারোয় পড়বেন অক্টোবরের ৩১ তারিখে। এই উনত্রিশ দিনে আরেকটি গোল করতে পারলেই রেকর্ডটা শুধুই তাঁর হয়ে যাবে।

বৃষ্টির কারণে প্রতিকূল অবস্থার কারণেই কি না, বল দখল করতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল দু দলের। বল দখল করতে গিয়ে ফাউলও হয়েছে প্রচুর। ফলে রেফারির হাত বারবার পকেটে ঢুকে যাচ্ছিল, বের হচ্ছিল একের পর এক হলুদ কার্ড। গোটা ম্যাচে রেফারি দুই দলের খেলোয়াড়দের হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন দশবার। এর মধ্যে বার্সার ফরাসি ডিফেন্ডার ক্লেমঁ লংলের কপাল আরও খারাপ। ৪২ মিনিটে দ্বিতীয়বারের মতো প্রশ্নবিদ্ধ ফাউল করে দুই হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় পড়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি। তবে কপাল খারাপ হতে পারত লংলের রক্ষণ সঙ্গী পিকেরও। ৩৫ মিনিটে সাবেক সতীর্থ ডেনিস সুয়ারেজকে অন্যায়ভাবে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন পিকে, তবে রিপ্লেতে দেখা যায় বল ধরার ঠিক আগ দিয়ে সুয়ারেজ অফসাইডে ছিলেন, ফলে সে যাত্রায় বেঁচে যান পিকে।

বল দখল করতে বাকিদের সমস্যা হলেও, মেসি ছিলেন নিজের ছন্দে। স্বভাবজাত ভঙ্গিমায় ৫১ মিনিটে একাধিক ডিফেন্ডার কাটিয়ে সেলতার ডি-বক্সে ঢুকে যান মেসি। তাঁর ডান পায়ের শট উরুগুয়ের লেফটব্যাক লুকাস ওলাসার পায়ের সঙ্গে লেগে দিক পরিবর্তন করে ঢুকে যায় জালে। স্কোরবোর্ডে ওলাসাকে আত্মঘাতী গোলদাতা বলা হলেও, আসল কাজ তো করেছিলেন মেসি-ই!

ম্যাচের একদম শেষদিকে রাইটব্যাক সের্হি রবের্তোর গোল শুধু ব্যবধানই বাড়ায়। বার্সাও বালাইদোস ছাড়ে তৃপ্তির এক জয় নিয়ে।

সর্বশেষ নিউজ