২২, অক্টোবর, ২০২০, বৃহস্পতিবার

৬ মাসে ২৮ দেশ থেকে এক লাখ ৬৫ হাজার প্রবাসী দেশে ফিরেছেন

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের ২৮টি দেশ থেকে গত ছয় মাসে (১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর) এক লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৮ জন প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে এক লাখ ৪৯ হাজার ১৮ জন পুরুষ ও নারী ১৬ হাজার ৬৪০ জন।

প্রবাসফেরত মোট কর্মীদের মধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি কর্মী (৮৩ হাজার ৮০৪ জন) মাত্র দুটি দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে ফেরত আসে। গত ছয় মাসে ফেরত আসা কর্মীদের মধ্যে সেপ্টেম্বরেই ফেরত এসেছে ৬৩ হাজার ৪৩২ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫৪ হাজার ৮০৮ জন ও নারী ৮ হাজার ৬২৪ জন। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন, কিংবা চাকরির চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অধিকাংশ কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। এছাড়া কেউ বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউট পাশের মাধ্যমে, কেউবা ভিসার মেয়াদ না থাকায় সাধারণ ক্ষমার আওতায় দেশে ফেরত এসেছেন।

২৮টি দেশের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরত আসেন ৪৪ হাজার ৬১৬ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪১ হাজার ৪৬০ জন ও নারী তিন হাজার ১৫৬ জন। কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের আবার নেয়ার কথা বলে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সৌদি আরব থেকে ৩৯ হাজার ১৮৮ জন ফেরত আসেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ হাজার ৪১২ জন ও নারী পাঁচ হাজার ৭৭৬ জন। বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউট পাশে, আবার কেউ চাকরি হারিয়ে, কিংবা ছুটি নিয়ে দেশে আসেন তারা। মালদ্বীপ থেকে ১০ হাজার ৪৮৩ জন (পুরুষ ১০ হাজার ৪১০ জন ও নারী ৭৩ জন) ফেরত আসেন। পর্যটননির্ভর দেশ হওয়ায় করোনাভাইরাসের কারণে কাজ নেই, তাই মালিক/কোম্পানি তাদের ফেরত পাঠিয়েছে।

সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত এসেছেন দুই হাজার ৭৯৪ জন (পুরুষ ২ হাজার ৭৬৫ জন ও নারী ২৯ জন) ফেরত আসেন। কাজের বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা দেশে ফেরত আসেন। ওমান থেকে ফেরত এসেছেন ১০ হাজার ৭১৩ জন (পুরুষ ৯ হাজার ৫২২ জন ও নারী এক হাজার ১৯১ জন) ফেরত আসেন। বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউট পাশের মাধ্যমে দেশে ফেরেন।

কুয়েত থেকে ৯ হাজার ৯৯৭ জন (পুরুষ ৯ হাজার ৭৮১ জন ও নারী ২১৬ জন) ফেরত আসেন। আকামা বা ভিসার মেয়াদ না থাকায় বা অবৈধ হওয়ায় সাধারণ ক্ষমার আওতায় ফেরত আসেন। আবার অনেক কর্মী বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে দেশে ফিরেছেন।

বাহরাইন থেকে ফেরতে এসেছেন ৯২১ জন (পুরুষ ৯০৩ জন ও নারী ১৮ জন) বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউট পাশ নিয়ে দেশ আসেন। এছাড়া অসুস্থ ও চাকরি হারিয়ে অনেকেই ফেরত আসেন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরত এসেছেন ৭১ জন। তাদের সবাই পুরুষ। কাজ নেই তাই দেশে ফিরে এসেছেন তারা।

কাতার থেকে ফেরত এসেছেন ১৪ হাজার ৯১১ জন (পুরুষ ১৩ হাজার ৬৭০ জন ও নারী এক হাজার ২৪১ জন)। কাজ নেই তাই ফিরে এসেছেন তারা।মালয়েশিয়া থেকে ফেরত এসেছেন সাত হাজার ৫৬৮ জন (পুরুষ সাত হাজার ২১৬ জন ও নারী ৩৫২ জন)। কাজ নেই তাই দেশে ফিরে এসেছেন তারা। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফেরত এসেছেন ১০০ জন এবং তাদের সবাই পুরুষ। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা দেশে ফিরে আসেন। কাজ না থাকায় থাইল্যান্ড থেকে ফেরত এসেছেন ৩২ জন (পুরুষ ৩০ জন ও নারী দুজন)। মিয়ানমার থেকে ফেরত এসেছেন ৩৯ জন। তাদের সবাই পুরুষ। কাজ না থাকায় তাদের সবাই ফিরে এসেছেন।

জর্দান থেকে ফেরত এসেছেন দুই হাজার ১৯৭ জন (পুরুষ ৪০৮ জন ও নারী এক হাজার ৭৮৯ জন)। তাদের সবাই গার্মেন্টস শ্রমিক। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ফিরে এসেছেন তারা। ভিয়েতনাম থেকে ফেরত এসেছেন ১২১ জন। তাদের সবাই পুরুষ। প্রতারিত হয়ে ফেরত এসেছেন তারা। কম্বোডিয়া থেকে ফেরত এসেছেন ১০৬ জন। সবাই পুরুষ। কাজ নেই তাই ফেরত এসেছেন তারা।

ইতালি থেকে ফেরত এসেছেন ১৫১ জন। তাদের সবাই পুরুষ। গত ৬ জুলাই বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ১৫১ জন বাংলাদেশি কর্মীকে করোনা সন্দেহে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সবাইকে সেনাবাহিনীর অধীন কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়। ইরাক থেকে ফেরত এসেছেন আট হাজার ৩২ জন (পুরুষ সাত হাজার ৯৫২ জন ও নারী ৬০জন)। কাজ নেই তাই ফেরত এসেছেন তারা।

শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরত এসেছেন ৫৪৮ জন এবং তাদের সবাই পুরুষ। কাজের মেয়াদ শেষে তারা ফেরত আসেন। মরিশাস থেকে ফেরত এসেছেন ৪৫২ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৪০ জন ও নারী ৩১২ জন। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় দেশে ফেরত আসেন তারা। রাশিয়া থেকে ফেরত এসেছেন ১০০ জন। তাদের সবাই পুরুষ। তাদের দেশে ফিরে আসার কারণ জানা যায়নি। তুরস্ক থেকে ফেরত আসেন ছয় হাজার ১৪২ জন। (পুরুষ পাঁচ হাজার ৬৩৬ জন ও নারী ৫০৬ জন)। কাজ না থাকায় তারা দেশে ফেরত এসেছেন।

লেবানন থেকে ফেরত আসেন পাঁচ হাজার ৮০১ জন (পুরুষ তিন হাজার ৯১৪ জন ও নারী এক হাজার ৮৭৮ জন)। কাজ নেই তাই ফেরত এসেছেন তারা। আবার তাদের মধ্যে অনেকে আউট পাশ নিয়ে ফেরত এসেছেন। নেপাল থেকে ফেরত আসেন ৫৫ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪০ জন ও নারী ১৫ জন)। তারা কী কারণে ফেরত আসেন তার উল্লেখ নেই।

হংকং থেকে ফেরত এসেছেন ১৬ জন। তাদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও নারী ৪ জন। কী কারণে তারা ফেরত আসেন তা জানা যায়নি। জাপান থেকে ফেরত এসেছেন ৮জন। তাদের সবাই পুরুষ। আইএম জাপানের মাধ্যমে যাওয়া প্রথম ব্যাচের আটজন ও তিনবছর মেয়াদ শেষে ছুটিতে আসেন। লন্ডন থেকে ফেরত আসেন ৫৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৪০ জন ও নারী ১৩ জন। কী কারণে ফেরত আসেন তার উল্লেখ নেই।

লিবিয়া থেকে ফেরত আসেন ৩১৫ জন। তাদের সবাই পুরুষ। তবে কী কারণে তারা ফেরত আসেন তার উল্লেখ নেই। এছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে ১২৮ জন ফেরত আসেন। তারা সবাই পুরুষ। তারা কী কারণে দেশে ফিরে এসেছেন তার উল্লেখ নেই।

সর্বশেষ নিউজ