২৪, অক্টোবর, ২০২০, শনিবার

কোথায় আছেন, কেমন আছেন হারিছ চৌধুরী?

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে। এ সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি ছিল হারিছ চৌধুরীর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ। হারিছ সিলেটের রাজনীতিতে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে তিনি কখনোই নেতৃস্থানীয় ছিল না। এ রকম একজন ব্যক্তিকে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব করার বিষয়টি নিয়ে বিএনপি`র অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন।

কিন্তু পরবর্তীতে তারা জানতে পেরেছেন, তারেক রহমানের আশীর্বাদ এবং আগ্রহের কারণে হারিছ চৌধুরীকে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক সচিব করা হয়েছে। হারিছ মূলত তারেকের এজেন্ট ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কী কাজ হচ্ছে, না হচ্ছে, কোন ফাইল আসছে, কোন টেন্ডার অনুমোদন হচ্ছে, কার নিয়োগ হচ্ছে- এসব বিষয় সম্পর্কে হাওয়া ভবনকে নিয়মিত খবর সরবরাহ করাই ছিল হারিছের কাজ। তিনি ফাইল আটকে রেখে বিভিন্ন ব্যবসায়ী এবং ব্যক্তিকে বলতেন, হাওয়া ভবনের যোগাযোগ করার জন্য। পরবর্তীতে তারা হাওয়া ভবনের খাম্বা মামুন এবং তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থের দফা-রফা করেই তাদের কাজের অনুমোদন পেতেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে কোন টেণ্ডার এবং কোন বড় ধরণের কাজ হাওয়া ভবনের অনুমোদন ছাড়া হয়নি। আর হাওয়া ভবনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লিয়াঁজো রক্ষা করতেন হারিছ চৌধুরী। আর এর মাধ্যমে তিনি বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় তার বিরু’দ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। সে সময় তিনি পালিয়ে ভারতে চলে যান। এরপর দীর্ঘদিন তিনি নিরুদ্দেশ ছিলেন। তার কোন খবর জানা যায়নি। তিনি কোথায় আছেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যেত না। এর মধ্যে একাধিক মামলায় তার মোট ৭২ বছরের সাজা পেয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে ঢাকায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ কিংবা তৎপরতা দেখা যায়নি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপিতে হারিছ চৌধুরীকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাকে গত কয়েক মাস ধরে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে বলে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন। বিএনপির কয়েকজন নেতাকে ফোন করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ‘ভাইয়া নির্দেশ দিয়েছেন’ বলেও উল্লেখ করেছেন। যদিও বিনপির অধিকাংশ নেতাই মনে করে বিএনপির আজকের এই পরিণতির জন্য যারা দায়ী, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন হারিছ চৌধুরী।

বিএনপির একজন নেতা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, গিয়াস উদ্দিন মামুন (খাম্বা মামুন), হারিছরাই বিএনপির এই পরিণতির জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। কারণ তাদের লাগামহীন দুর্নীতি এবং অর্থ লিপ্সাই এক কঠিন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। যে পরিস্থিতির কারণে দেশে ওয়ান ইলেভেন এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হারিছ যে কোনোভাবে কানাডার একটি পাসপোর্ট জোগাড় করেছেন। তিনি এই পাসপোর্ট নিয়ে কখনো ভারতে, কখনো যুক্তরাষ্ট্রে, কখনো যুক্তরাজ্যে এবং কখনও কানাডায় থাকছেন। তবে গত কয়েক মাস ধরে তাকে লন্ডনে দেখা গেছে বলে সেখানকার একাধিক বিএনপি নেতা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রথম দিকে তারেক রহমানের সঙ্গে তার মনোমালিন্য ছিল। বিশেষ করে তারেক রহমান যখন গ্রেপ্তার হন, সে সময় হারিছের পালিয়ে যাওয়া তারেক রহমান সহজভাবে নেননি। কিন্তু পরবর্তীতে অর্থ এবং অন্যান্যভাবে তারেক রহমানকে ম্যানেজ করেছেন। যে কারণে বিএনপির বিদেশি বলয়ে তাকে দেখা যাচ্ছে।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, দু’র্বৃত্তরা আবার বিএনপিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। যাদের কারণে বিএনপির এই পরিণতি, আবার বিভিন্ন জায়গায় আবির্ভূত হচ্ছেন তারা। এদের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দৌড় সালাউদ্দিনের কারণে ঢাকা শহরে বিনপির ভাবমূর্তি ন’ষ্ট হয়েছিল। সেই দৌড় সালাউদ্দিন এখন মনোনয়ন পেয়েছেন। হারিছ বিএনপিকে চাঁদা’বাজ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন, তিনি এখন দলের সিনিয়র নেতাদের টেলিফোন করে বিভিন্ন উপদেশ দিচ্ছেন। অনেকের মতে, হারিছ এখন তারেক রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে কাজ করছেন।

তবে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা বিষয়টি মানতে নারাজ। তাদের মতে, হারিছ চৌধুরী আগের অবস্থানে ফিরে আসতে পারবে না। তারেক এবং হারিছ উভয়েই সম্মিলিতভাবে বিপুল অর্থ বিদেশে সরিয়েছেন, তাই অর্থই দু’জনের সম্পর্কের ভিত্তি। এ কারণে তারেক রহমান এখন হারিছকে কিছুটা গ্রাহ্য করছেন। তবে হারিছ যে রাজনীতিতে আবার ফিরবেন; তা নয়। বরং হাজার কোটি টাকার ওপর হারিছ এখন বিদেশে বেশ সুখেই আছেন। বাংলাইনসাইডার।

সর্বশেষ নিউজ