৩১, অক্টোবর, ২০২০, শনিবার

‘ভয়েসটা আমার না’, দা‌বি নিক্সন চৌধুরীর

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) গালিগালাজ করার ভয়েটা ‘নিজের না’ বলে দাবি করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন)।

তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ‘এই ভয়েসটা আমার না। প্রথমে আমি এসিল্যান্ডকে (সহকারী কমিশনার ভূমি) ফোন করেছিলাম। ‘আমি দেখতেছি’ এটা বলে এসিল্যান্ড ফোনটা বন্ধ করে দেন। পরে আমি আপাকে (ইউএনও) ফোন করলাম। বললাম যে, আপা আমার এরকম একটা লোক ধরা পড়ছে, আপনি একটু দেখেন, তার কোনও অন্যায় নাই। সে মাঠে দাঁড়ায়ে সিগারেট খাচ্ছিল। তাকে বিজিবি ধরে নিয়েছে, আপনি একটু ব্যবস্থা নেন। এই কথাটুকুই আমি তাকে বলেছি। বাকি কোনও কথা আমার না। আমার কথার সত্যতা ইউএনও সাহেবকে জিজ্ঞেস করলেই পাওয়া যাবে।’

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আপনারা জিজ্ঞেস করেন এই গালিগুলো আমি আমার ইউএনওকে দিয়েছি কিনা। সে বলুক এই গালিগুলো আমি তাকে দিয়েছি। সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করেন, এই ভয়েসটা আমার। এই ক্লিপগুলা এক এক জায়গা থেকে কেটে নিয়ে, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এটা করা হয়েছে।’

‘সোস্যাল মিডিয়াতে প্রকাশিত গালিগালাজের বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার আর ইউএনও’র কথাই শুধু ভাইরাল হয় নাই, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে ইউএনও’র কথাবার্তাও ভাইরাল হয়েছে। এটা দেশের বিরুদ্ধে কোনও মহলের ষড়যন্ত্র, তারা এই কাজটা করেছে। এটা সরকারের দায়িত্ব খুঁজে বের করা।’

‘আমার বিরুদ্ধে মামলা হলে ডিসির বিরুদ্ধেও মামলা হবে’ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করি তাহলে পরদিন সকালে ডিসি সাহেব নির্দেশ দিয়ে ইউএনও সাহেবকে কেন আমার বাড়িতে পাঠালেন? ইউএনও কি নির্বাচনকালীন ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে আমার বাড়িতে আসতে পারে? তাহলে তো সেও আইন ভঙ্গ করেছে। আমার কথা হল, আমি যদি আইন ভঙ্গ করে থাকি তাহলে ডিসি সাহেবও আইন ভঙ্গ করেছেন, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করেছেন। তার বিরুদ্ধেও কেবিনেটে ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আমি যদি কোনও আইন ভঙ্গ করে থাকি তবে অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে মামলা হবে। আমার একার বিরুদ্ধে কেন মামলা হবে? আইন ভঙ্গ তো ডিসিও করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি ফোন করে এসিল্যান্ডকে গালাগালি করেছি’- এই প্রতিবেদন যে কেবিনেটে দিয়েছেন তাতে উনিই তো আইন বিরোধী কাজ করেছেন। ধরেন আমি এরকম যদি কোনও স্ল্যাঙ্গ ইউজ করে থাকি, উনি কি এটা সোস্যাল মিডিয়াতে দিতে পারেন? সোশ্যাল মিডিয়াতে দিলে তো উনি আইন ভঙ্গকারী হিসেবে মামলা খায়।’

নিক্সন চৌধুরীর দাবি জানিয়ে বলেন, ‘উপনির্বাচনে যারা পক্ষপাতিত্ব করেছে তাদের বিচার হোক এবং আমাকে নিয়ে যে সোস্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা হচ্ছে সেটারও বিচার হোক।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন ও ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফায়জুর রহমান প্রমুখ।

সর্বশেষ নিউজ