১৪, অক্টোবর, ২০২০, বুধবার

সাংস্কৃতিক জনপদে ইউএনও রাজীবুলের দুইবছর

মিজানুর রহমান নয়ন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: সদাসত্য হাস্যজ্জ্বল চমৎকার দৃষ্টিনন্দন ব্যক্তিত্ব রাজীবুল ইসলাম খানের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হিসেবে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়া জেলার প্রাণকেন্দ্র কুমারখালীতে দুইবছর পূর্ণ হয়েছে।যোগাদানের পর থেকেই চারিত্রিক গুণাবলি, অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, সুন্দর ব্যবহার ও অর্পিত দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের জনগণের মনে জায়গা করে নিয়েছে। নিজের অফিস, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাম্প্রতিক চলমান মহামারি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে তার ভূমিকা ছিল সকল মহলে প্রসংশীয়।বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, বাজার মনিটারিং সহ সকল অভিযানেও ব্যাপক সারা ও সময়োপযোগী। সেই জনপ্রিয় ইউএনও রাজীবুল ইসলাম খানের ১৩ অক্টোবর ২০২০ ইং তারিখ ছিল সাংস্কৃতিক জনপদে দুইবছর পূর্ণ হওয়ার দিন। পেশাগত ট্রেনিংয়ের জন্য উপজেলার বাইরে ব্যস্ত থাকায় তিনি দিনটাকে ভুলেই গিয়েছিলেন।আবেগে ১৪ অক্টোবর তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে দিয়েছেন একটি স্ট্যাটাস। নিচে হুবুহু তুলে ধরা হলঃ

ট্রেনিংয়ে থাকায় ভুলেই গিয়েছিলাম গতকাল ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জনপদ কুমারখালীতে ২ বছর পূর্ণ হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর ইউএনও হিসাবে কুষ্টিয়া জেলায় যোগদান করে ১৩ তারিখে কুমারখালীতে দায়িত্ব গ্রহণ করি। বৈদেশিক মাস্টার্স করার কারণে আমার ব্যাচের স্বাভাবিক সময়ের ১ বছর পরে আমি ইউএনও হবার সুযোগ পাই। সরকারি উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে নিবিড়ভাবে অংশগ্রহণ এবং জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের জন্য কাজ করার সুযোগ আছে এই পদে থেকে।

একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তবে ইউএনও এর সীমাবদ্ধতা অনেকের জানা নাই।একজন ইউএনওকে অনেক স্টেকহোল্ডারের সাথে সমন্বয় করে সরকারি কাজ বাস্তবায়ন করতে হয়। এদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, মাননীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, ব্যাবসায়ী ও বিনিয়োগকারী, এনজিও, সাংবাদিকবৃন্দ, শিক্ষক সমাজ, ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার জনগণের সক্রিয় ও সহযোগিতাপূর্ণ ভূমিকা, মতামত ও অংশগ্রহণ ইউএনও এর কাজের সফলতা ও ব্যর্থতার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এই ২ বছর সময়ে চেষ্টা করে এই সকল পক্ষের মতামত গ্রহণ ও সহযোগিতা পাওয়া নিশ্চিত করতে চেয়েছি।

আমি মনে করি সমাজের সকল ব্যাধির উৎস দুর্নীতি। ইউএনও হিসাবে নিশ্চিত করেছি আমার অফিস থেকে যেকোনো কাজে বা সেবা পেতে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যেন সরকারি ফি এর অতিরিক্ত ১ টাকাও খরচ করতে না হয়। সকল উন্নয়ন কাজের বিশেষ করে এলজিইডি ও দূর্যোগে ব্যাবস্থাপনা অধিদপ্তরের কোন প্রকল্পের ঠিকাদার বা পিআইসিকে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে স্পষ্ট ও কঠোরভাবে বলা আছে কাজের বিল পাবার ক্ষেত্রে ইউএনও এর স্বাক্ষরের জন্য আমাকে বা আমার অফিসের কোন স্টাফকে ১ কাপ চাও খাওয়ানো লাগবে না। আমার অফিসে এই ওয়াদা রাখতে পেরেছি। গত ২ বছরে কোন বৈধ বিল পাবার জন্য কোন তদবির করা লাগে নাই। অতি দ্রুত পরীক্ষা করে আমি বিল দিয়ে দেই। এর পরেও তারা আমার অফিসের বাইরে কাউকে খুশি করার চেষ্টা করলে সে দায় তার। আমার আওতায় আছে এমন সরকারি অর্থের যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য আমি সর্বোচ্চ শ্রম দিয়েছি। বিভিন্ন সরকারি ভাতাভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করতে। তবে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের মাঝে সচেতনতার ব্যাপক অভাব এবং কিছু টাউট শ্রেণির মানুষের অপতৎপরতায় এটা ১০০% নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

সরকারি সকল কাজ বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হয়। এইসব কাজের সঠিকটা নিশ্চিত করতে সকল স্টেকহোল্ডারের সক্রিয় ভূমিকা লাগে। এছাড়া রাষ্ট্রের বিভিন্ন কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করার জন্য একটা দুষ্টচক্র চেষ্টা চালায়। এরা অবৈধ সুবিধা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হবার চেষ্টা করে। এরা সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রু। সরকারের সুষ্পষ্ট নির্দেশ আছে এদের দমন করতে। এখানেও সকল স্টেকহোল্ডারের সদিচ্ছা লাগে। এই ২ বছরে অনেক ঝুঁকি নিয়েও সরকারি স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছি। জনস্বার্থে অসংখ্য মোবাইল কোর্ট করেছি। অনেক ব্যক্তি এসকল অভিযানের কারণে ক্ষুব্ধ হতে পারেন। তবে নিজের বিবেকের কাছে আমি ১০০% পরিষ্কার। জনস্বার্থ ছাড়া এবং আইনের বাইরে কারো প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের কারনে কোন কাজ করি নাই।

ইউএনও একজন গণকর্মচারী মাত্র। কুমারখালীর মানুষের অবাধ বিচরণ ছিল আমার অফিসে, মোবাইল ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। জনগণের দেওয়া তথ্য অনেক ক্ষেত্রেই অনেক সামাজিক সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমার সকল কাজে মানুষের আগ্রহ এবং সমর্থন আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। এ কারনে কুমারখালীবাসীকে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা। এছাড়া সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ, সাংবাদিকবৃন্দ আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন অনুপ্রাণিত করেছেন। পর্যটনের শহর কুমারখালীকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করানোর জন্য ১টি ডকুমেন্টারি বানিয়েছি। দেশ বিদেশের সকল পর্যটকদের কাছে কুমারখালী উপজেলার সুন্দর ইমেজ আমাদেরকে তুলে ধরতে হবে। সকল পর্যটকদের আমরা হাসিমুখে গ্রহণ করতে চাই।

২ বছরের প্রাক্কালে সম্মানিত কুমারখালীবাসীর প্রতি আবেদন সরকার আপনাদের জন্য যতকিছু করে সেই কাজ নিজে বুঝে নিন। এই কাজ আপনার জন্যই করা হয়। আপনাকে যেন কেউ ভুল বুঝিয়ে ফাঁকি দিতে না পারে। এর পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, মাদক, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এগিয়ে আসুন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সহযোগিতা করুন। সরকার চাইলে যে কয়দিন কুমারখালী থাকব সকলের সহযোগিতা নিয়ে নিজের ১০০% দিয়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।

সর্বশেষ নিউজ