১৮, অক্টোবর, ২০২০, রোববার

কুমারখালীতে আ’লীগ নেতার বাড়িতে ছাত্রকে আটকে মুক্তিপণের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ২

মিজানুর রহমান নয়ন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আনছার আলীর বাড়িতে কামরুজ্জামান (১৬) নামের এক স্কুল ছাত্রকে আটক করে রড ও গাছের ডাল দিয়ে রাতভর পিটিয়ে দশ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় ঘটনার সাথে জড়িত তাইজাল কে প্রধান আসামী করে চারজনের নামে মামলা দায়ের করেন ওই ছাত্রের চাচা সোহেল।মামলা নং ১২, তাং- ১৮/১০/২০২০ ইং।

মামলা রুজু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণের টাকাসহ প্রধান দুই আসামী তাইজাল ও শুকুর আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।শুকুর পান্টি ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আনছার আলী মিস্ত্রির ছেলে এবং তাইজাল একই এলাকার মৃত মসলেম মোল্লার ছেলে তাইজাল।এই মামলায় পলাতক রয়েছে একই এলাকার ডাবলু মোল্লার ছেলে রানা ও আনোয়ার মাষ্টারের ছেলে রয়েল।

স্থানীয়, পরিবার ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বুরুরিয়া গ্রামের কৃষক সমসেন আলী’র ছেলে কামরুজ্জামান দুলাভাই বাড়ির উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মসজিদের সামনে পৌছালে ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আনছার মিস্ত্রির ছেলে শুকুর আলী, বাবলু মোল্লার ছেলে রানা, মৃত মসলেম মোল্লার ছেলে তাইজাল ও আনোয়ার মাষ্টারের ছেলে রয়েল মোটরসাইকেল যোগে আওয়ামীলীগ সভাপতি আনছার মিস্ত্রির বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে।এরপর রড ও জিগার ডাল দিয়ে বেধরক পিটিয়ে স্কুল ছাত্রের পরিবারকে ফোন দেয়।ফজরের আযানের সসময় ফোন পেয়ে ছাত্রের চাচা বাদশা ও সোহেল রিক্সাযোগে দ্রুত সভাপতির বাড়িতে পৌছালে চাঁদাবাজ শুকুর নানান অভিযোগ এনে বলেন ৫০ হাজার টাকা না দিলে হয় মেরে ফেলব, না হয় পুলিশের হাতে তুলে দিব।এসময় টাকা দিতে অসম্মতি প্রকাশ করলে চাদাবাজরা নানান হুমকি ও অসাধু আচরণ শুরু করলে হাত পা ধরে মাপ চেয়ে ধার নেওয়া ১০ হাজার টাকা বৃহস্পতিবার ১ টা ১০ মিনিটের দিকে শুকুকের হাতে তুলে দিয়ে স্কুল ছাত্রকে নিয়ে কোনমতে প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফেরে চাচা সোহেল।

এবিষয়ে স্কুল ছাত্রের চাচা ও মামলার বাদী সোহেল বলেন, ভাতিজাকে রড দিয়ে পিটানো হচ্ছে, মেরে ফেলা হতে পারে।এমন ফোন ফজরের আযানের সময় রিক্সা নিয়ে দ্রুত আওয়ামীলীগ সভাপতির বাড়িতে গেলে সভাপতির ছেলে শুকুর ও সহযোগীরা বলেন ৫০ হাজার টাকা না দিলে কামরুজ্জামান কে মেরে ফেলব অথবা ইয়াবা গাজাসহ পুলিশে দেব।একথা শোনে ঘটনার কারন জানতে চাইলে অসুলভ আচরণ করে নানান ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।এরপর কোন উপায় না পেয়ে ওই এলাকার এক দোকানীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নিয়ে তাইজাল ও শুকুরের হাতে দিয়ে চলে আসি।

তিনি আরো বলেন, এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছি।উপযুক্ত বিচারের দাবি জনায়।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, স্কুল ছাত্রকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে।মুক্তিপণের টাকা উদ্ধারসহ প্রধান দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।বাকীদের গ্রেফতার করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।তিনি আরো বলেন, মামলার বাদী ও পরিবারকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ