২৭, নভেম্বর, ২০২০, শুক্রবার

ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুলে অনিয়ম ও দুর্নীতি!

এসএম বাচ্চু,তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি: নারী কেলেঙ্কারী,ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট, সরকারী ঘর, বয়ষ্ক ভাতা,বিধবা ভাতাসহ সরকারী সকল উপকারভোগীদের কাছ থেকে পরতে পরতে টাকা আদায়সহ ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের টাকা ও হজম করেছেন সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুলের বিরুদ্ধে।

প্রকাশ,জমি বন্ধকের টাকা সালিশ মিমাংসার নামে আতœসাৎ করেছেন চেয়ারম্যান রফিকুল। বিবাদী ভিক্ষুককে টাকা ফেরত না দিয়ে পুরো টাকাটাই হজম করে ফেলেছেন তিনি।

এদিকে,প্রথম স্বামীর অত্যাচার হতে বাঁচতে চেয়ারম্যান রফিকুলের কাছে অভিযোগ করে শেষে হতে হলো চেয়ারম্যানের বউ। সাবেক স্বামীর কাছ থেকে আদায় করা ৩ লক্ষ টাকা ফেরত দিবে না বলে চেয়ারম্যান রফিকুল নিজেই বাদীকে স্ত্রী বানিয়ে বসলেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, লাউতাড়া গ্রামের বয়োবৃদ্ধ ভিক্ষুক জাহাবক্স মোড়ল (৮৫) ভিক্ষা করে টাকা সঞ্চয় করে প্রতিবেশীর কাছ থেকে ৩৪ হাজার টাকায় জমি বন্ধক রাখেন। বন্ধকী জমি বুঝে না পেয়ে চেয়ারম্যানের গ্রাম আদালতে বিচার দেন ভিক্ষুক। চেয়ারম্যান রফিকুল সালিশের মাধ্যমে সে টাকা আদায় করলেও ভিক্ষুক জাহাবক্সকে মাত্র ৩ হাজার টাকা ফেরত দেয়। বাকি ৩১ হাজার টাকা বিভিন্ন সময় তাগাদা করেও ফেরত পায়নি ওই ভিক্ষুক।

অনুরুপ,লাউতাড়া গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা ফরিদা বেগমের ব্যবসার ৪৭ হাজার টাকাও সালিশ মিমাংসার নামে আতœসাৎ করেছেন তেঁতুলিয়ার চেয়ারম্যান। গ্রহীতা সমুদয় টাকা ফেরত দিলেও টাকা পায়নি ফরিদা। সম্পূর্ণ টাকা হজম করছেন চেয়ারম্যান।

তেঁতুলিয়ার সেতুর বাজারে ব্যবসায়ী সামাদ শেখের দখলীয় দোকান ঘর গায়ের জোরে বেদখল করে দেয় চেয়ারম্যান রফিকুলের পেটুয়া বাহিনী। এ কাজে সহযোগীতার জন্য লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। আবার সামাদকে ঘর ফিরিয়ে দিবে বলে৫৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন চেয়ারম্যান রফিকুল।
সরকারী ছাদের ঘর দেয়ার কথা বলে একই গ্রামের কামরুল ইসলামের কাছে থেকে ২১ হাজার টাকা হান্নান মোড়লের স্ত্রী আনোয়ারর কাছ থেকে ঘর দেয়ার কথা বলে ২৫ হাজার টাকা আতœসাৎ করেছেন রফিকুল। গত ১ বছর ধরে তাগাদা দিলেও টাকা ফেরত পায়নি তারা।

লাউতাড়া গ্রামের ভিক্ষুক জাহাবক্স মোড়ল বলেন, শালিস মিমাংসা করে আমার জমি বন্ধক রাখা টাকা চেয়ারম্যান রফিকুল ফেরত দিল না। ৩৪ হাজার টাকা থেকে মাত্র ৩ হাজার টাকা পাইছি, বাকি টাকা চেয়ারম্যান মেরে দেছে।
ফরিদা বেগম বলেন, আমি বাপের বাড়ি থেকে ধান চাউলের ব্যবসা করি। আমার প্রতিবেশী ভাই ব্যবসার কথা বলে আমার কাছ থেকে টাকা নেয়। পরে সে টাকা আর ফেরত না দিয়ে তাল বাহানা করে। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানালে শালিশের মাধ্যমে মিমাংসা হয়। সে চেয়ারম্যানের কাছে ৪৭ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু চেয়ারম্যান আজও আমার সে টাকা ফেরত দেয়নি। চাইলে শুধু দিন দেয় টাকা দেয় না। ভূক্তভোগী কামরুল আনোয়ারা ও সামাদ শেখ একই ধরনের কথা বলেন (সকল বক্তব্য ভিডিও ধারণকৃত)।

এবিষয়ে চেয়ারম্যান রফিকুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সন্তোষ জনক জবাব দিতে ব্যার্থ হয়ে উপরক্ত বিষয় এড়িয়ে যান তিনি।

সর্বশেষ নিউজ