৪, ডিসেম্বর, ২০২০, শুক্রবার

কুমারখালীতে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে বরাদ্দকৃত জমি জবর দখলের অভিযোগ

মিজানুর রহমান নয়ন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের নগরকয়া মৌজায় ১১ জন বীরমুক্তিযোদ্ধাদের নামে বরাদ্দকৃত সরকারী ১ নং খাস খতিয়ানের একশত নিরানব্বই শতাংশ জমি প্রায় সাত বছর যাবৎ জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় নয়জন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।কেছমত আলী ও লোকমান হোসেন নামের দুইজন বীরমুক্তিযোদ্ধার এমন লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বুধবার সকালে সরেজমিন তদন্ত ও মাপজোখ করে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ,সুশীলসমাজ,পুলিশ প্রশাসন ও বীরমুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বৈঠক শেষে বীরমুক্তিযোদ্ধা কেছমত আলীর নামে বরাদ্দকৃত ২৫ শতাংশ ও বীরমুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেনের নামে বরাদ্দকৃত ২৫ শতাংশ জমি জবর দখল মুক্ত করে বুঝে দেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এম এ মুহাইমিন আল জিহান।এসময় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি,জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও যুদ্ধাকালিন ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফর, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এটিএম আবুল মনসুর মজনু, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী,পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি টিপু মিঞা ও সাধারণ সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন সহ প্রমূখ।তবে এসময় জবর দখলকারীর কেউ উপস্থিত ছিলনা।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, ২০১২ -২০১৩ অর্থ বছরে সরকারি ১নং খতিয়ানভুক্ত জমি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করে পান্টি ইউনিয়ের ১১ জন বীরমুক্তিযোদ্ধা। আবেদনের প্রেক্ষিতে ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে মোঃ জামাল উদ্দিনের নামে বরাদ্দ হয় ২৫ শতাংশ (দাগ নং ৮২১), মৃত মহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ এর নামে ২৫ শতাংশ (দাগ নং ৮২০), কফিল উদ্দিনের ছেলে ইয়াকুব আলীর নামে ১৮ শতাংশ (দাগ নং ৩৬০ ও ৩১৭),মৃত সুরত আলীর ছেলে এতেম আলীর নামে ৩২ শতাংশ (দাগ নং ৩১৪ ও ৩২১) এবং তুষারমালিয়াট গ্রামের মৃত মোজাহার আলীর ছেলে কেছমত আলীর নামে ২৫ শতাংশ দাগ নং ৮২০), বিরিকয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে শরিফুল ইসলামের নামে ২২ শতাংশ (দাগ নং ৮৬৫) , ডাঁশা গ্রামের মৃত রওশন আলীর ছেলে লোকমান হোসেনের নামে ২৫ শতাংশ (দাগ নং ৮০২) ও নগরকয়া গ্রামের মৃত বাছের আলীর ছেলে আক্কাস আলীর নামে ২৭ শতাংশ(দাগ নং ৮০২) জমি।

আরো জানা গেছে, প্রায় সাত বছর যাবৎ বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ জামাল উদ্দিনের জমি প্রভাব খাটিয়ে জবর দখলে রেখেছেন নগরকয়া গ্রামের মৃত আঃ জব্বার মোল্লার ছেলে আঃ মতলেব মোল্লা, মোঃ আব্দুল্লাহ ও কেছমত আলীর জমি দখলে রয়েছে নগরকয়া গ্রামের মৃত ছামছুদ্দিন মোল্লার ছেলে মোঃ আনছার আলী মোল্লার, ইয়াকুব আলীর জমি দখল করেছেন ভালুকা গ্রামের মৃত আধার চন্দ্র মন্ডলের ছেলে শ্রী শ্রী তারক চন্দ্র মন্ডল ও একই গ্রামের মৃত নুর উদ্দিনের ছেলে মোঃ শামিম সাহেব, এতেম আলীর জমি জবর দখলে রয়েছে ভালুকা গ্রামের মৃত জলিল মোল্লার ছেলে মান্নান মোল্লা ও লক্ষীপুর গ্রামের হাসান আলী বিশ্বাসের ছেলে মোঃ আব্দুর রহমান, শরিফুল ইসলামের জমি রয়েছে নগরকয়া গ্রামের মৃত কেরু বিশ্বাসের ছেলে মোঃ বিপুলের দখলে, আক্কাস আলী ও লোকমান হোসেনের জমি জবর দখল করেছে নগরকয়া গ্রামের মৃত মোস্তফা শেখের ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলাম ও মৃত আব্দুল শেখের ছেলে মোঃ আকামদ্দি।

এবিষয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, আবেদনের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি ১নং খাস খতিয়ানের জমি বরাদ্দ দেওয়া হলেও তারা দখলে যেতে পারিনি এমন দুইজন মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগের ভিত্তিতে আজ মাপজোখ করে অভিযোগকারীদের দখল বুঝিয়ে দেওয়া হল।তিনি আরো বলেন, অভিযোগ পেলে পর্যায়ক্রমে বাকীদের জমি জবর দখল মুক্ত করা হবে।

সর্বশেষ নিউজ