২৩, নভেম্বর, ২০২০, সোমবার

যুবলীগের চাবি উঠছে সম্রাটের হাতেই?

এক বছর ধরে জেলে আছেন ক্যাসিনো সম্রাট। একাধিক মামলা তার নামে। কিন্তু এখনও তার কথায় চলে ঢাকা দক্ষিণের যুবলীগ। তিনি হলেন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। গতকাল তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গনে ২ হাজারের মতো নেতাকর্মী জড়ো হন। তারা সম্রাটের পক্ষে শ্লোগান দেন এবং মুক্তি দাবী করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যারা সেদিন সম্রাটের পক্ষে মিছিলে গিয়েছিলেন, তারা সবাই বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের নেতাকর্মী। এদের মধ্যে দক্ষিণ যুবলীগের কয়েকজন নেতাও ছিলেন। ওয়ার্ড পর্যায়ে যুবলীগের প্রায় সব নেতাই সম্রাটের মুক্তির দাবীতে আদালত প্রাঙ্গনে জড়ো হন। যুবলীগের দক্ষিণের বহি’ষ্কৃত সভাপতি হলেও পুরো ঢাকা জুড়েই সম্রাটের কর্মী, সমর্থক ও ক্যাডার রয়েছে।

গত বছর সম্রাট গ্রেপ্তার হবার পর থেকে মূলতঃ যুবলীগের কর্মীরাই সম্রাটের মুক্তির দাবীতে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী পালন করছে। তারা ঢাকা শহরে সম্রাটের মুক্তির দাবীতে পোষ্টার ছাপিয়ে বিলি করেছে। মানববন্ধন করেছে। এক বছর পরও সম্রাটের পক্ষে কর্মীরা কাজ করছে। আর এটি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের জন্য নতুন সং’কট সৃষ্টি করেছে।

সম্রাট প্রথম আওয়ামী লীগ সভাপতির নজরে আসেন আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের ঘটনায়। ২০১৮’র সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে বলেছিলেন, ‘স্রমাট আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবী করেছে। ঐ সংগঠনকে আমি, রেহানা সহযোগিতা করি। এখন তারা একটা ভবন নির্মাণ করছে। আর সেখানে স্রমাট চাঁদা চেয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি তখনই সম্রাটকে বহি’ষ্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু যুবলীগ সে সময় কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। পরের বছর সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরো’ধী অভিযান শুরু হলে গ্রেপ্তার হয় স্রমাট। এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ থেকে তাকে বহি’ষ্কার করা হয়। কিন্তু যুবলীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, ঢাকা মহানগরে যুবলীগ মানেই সম্রাটের অনুসারী। শুধু যুবলীগ নয়, এখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সম্রাটের একটা ফ্যাক্টর বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা।

জানা গেছে, সম্রাটের কারণেই যুবলীগের কমিটি গঠনে বিলম্ব হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা যুবলীগের চেয়ারম্যান পরশ কর্মীদের খুব একটা চেনেন না। আবার, সাধারণ সম্পাদক নিখিল জানেন সম্রাটের প্রভাবের কথা। তাই যুবলীগের নতুন কমিটি ‘সম্রাট মুক্ত’ করতে চান তারা। কিন্তু সম্রাট অনুসারীরা প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগ এবং সম্রাটের প্রতি সমর্থন জানায়। কর্মী বিবেচনায় যুবলীগের চাবি এখনও সম্রাটের হাতেই বলে মনে করেন অনেকেই। বাংলাইনসাইডার।

সর্বশেষ নিউজ