২, ডিসেম্বর, ২০২০, বুধবার

নরসিংদীতে জেলা কারাগারে ২৫০০ টাকায় মিলে ১ কেজি গরুর মাংস চরম ভোগান্তিতে আসামীরা

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীতে জেলা কারাগারে চলছে অনিয়ম-দুর্নীতি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নেই কোন দৃষ্টি। জেলা কারাগারের ভিতরে থাকা ক্যান্টিন থেকে ১ কেজি গরুর মাংস ক্রয় করতে গুনতে হচ্ছে ২৫০০ টাকা, ১ কেজি মুরগীর মাংস কিনতে গুনতে হচ্ছে ১১০০ টাকা। শুধু তাই নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্র খুব চড়া দামে ক্রয় করতে হচ্ছে।

এছাড়া, প্রতি মাসে আসামীদের সীট ভাড়া দিতে হয় ৩ থেকে ৭ হাজার টাকা। এতে করে গরীর অসহায় মানুষগুলো খুবই কষ্টে ফাইলের উপরে ঘুমাতে হয়। জেলা কারাগারের ভিতরে থাকা কেষ্টফাইল নামে একটি জায়গায়ও দিতে হয় মাসিক মাসুহারা।

এদিকে নরসিংদী জেলা কারাগারে থাকা এক বন্দী আসামী জামিনে মুক্তি পেয়ে এসে অভিযোগ করে বলেন, টাকা থাকলেই জেলখানার ভিতরে সুখ মিলছে। জেলাখানার ভিতরে থাকা প্রত্যেকটি ওয়ার্ড থেকে মাসিক প্রায় এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জেলখানার কিছু অসাধু কর্মকর্তা।

অপরদিকে জেলাখানার দায়িত্বে থাকা কিছু অসাধু কর্মকর্তা, অধিক টাকার বিনিময়ে আসামীদেরকে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছেন। কিন্তু যারা অসহায়, গরীব, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল তাদের দুঃখের কোন অন্ত নেই। এদিকে নরসিংদী জেলা কারাগারে দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, এখানকার প্রতিটি কর্মকর্তাই অসাধু কাজে জড়িত আছেন। এমনকি জেলা কারাগারের ভিতরে থাকা ক্যান্টিনের টাকার মধ্যে পর্যন্ত তারা ভাগ বসাচ্ছেন।

এই কারাগারের মধ্যে ক্যান্টিনের দুর্নীতি, বন্দী বেচাকেনা, সুস্থ বন্দীদের টাকার বিনিময়ে হাসপাতালে ভর্তি, সাক্ষাৎ ও জামিন-বাণিজ্যসহ নানা দুর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।এসব অনিয়ম কিছু অসাধু কর্মকর্তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেছে, অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কারাগার থেকে আয় করে প্রধান কারারক্ষী সহ অন্যান্য ডিউটিরত কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার নরসিংদী জেলা কারাগারে গেলে কর্তব্যরত কর্মকর্তারা বলেন, এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে আমরা প্রস্তুত নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কারাগারের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি করা উচিত।

সর্বশেষ নিউজ