১, ডিসেম্বর, ২০২০, মঙ্গলবার

ধর্ষণের শিকার নারীর করণীয়

যেখানে ধর্ষণের পর ধর্ষণকারী পুরুষটি লজ্জিত এবং আতঙ্কিত থাকেন কথা, সেখানে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার কারণে ধর্ষণের পর যে কোনো নারী এতটাই লজ্জিত এবং আতঙ্কিত থাকেন যে, তিনি ধর্ষক সম্পর্কে কোনো কথা বলতে বা পুলিশের কাছে গিয়ে সে অভিজ্ঞতা বা ধর্ষক সম্পর্কে জানাতে ভয় পান অথবা কুণ্ঠাবোধ করেন। ‘‘অনেক ধর্ষিতা নারীরই বেশ কিছুদিন সময় লেগে যায় নিজের জীবনে ধর্ষণের মতো দুর্ঘটনার কথা কারো কাছে সরাসরি বলতে। ধর্ষণের মামলা যাতে ভালোভাবে নথিভুক্ত করা যায়, অপরাধীদের যাতে শাস্তি হয় এবং নিগৃহীত নারী যাতে মানসিকভাবে কম কষ্ট পান, সেজন্য তাঁদের দ্রুত এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ‘মেডিকেল টেস্ট’-এর প্রয়োজন হয়, ধর্ষণের পর একজন নারীর যা করণীয় :

১.ধর্ষণের পর একা না থাকা, কোনো বান্ধবী বা নিকট আতœীয়ার সাথে যোগায়োগ করা, ঘটে যাওয়া ধর্ষণ নিয়ে কথা বলুন এবং তাঁর সাহায্য নিন।

২.গোসল, খাওয়া-দাওয়া, বাথরুম যাওয়া সম্ভব হলে এসব বন্ধ রেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালের ওসিসি-তে ভর্তি হওয়া কিংবা পুলিশের নিকট চলে যাওয়া। অর্থাৎ ধর্ষণের চিহ্ন মুছে যাবার আগেই ডাক্তারি পরীক্ষা করান।
৩.ধর্ষণকারী যেসব জিনিসের সংস্পর্শে এসেছে, তার সব তুলে রাখা। যেমন- অন্তর্বাস, প্যাড ইত্যাদি। সম্ভব হলে এ সব জিনিসের ছবিও তুলে রাখা।

বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে খুব সহজেই ধর্ষককে চিহ্নিত করে ও তার বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা প্রমাণ করা সহজ। শুধু তাই নয়, কোনো নারী যদি বলেন যে, ধর্ষণের সময় তিনি ধর্ষককে নখের আচড় বা খামচি অথবা কাপড় দিয়েছেন, তাহলে পরে তাঁর নখ কেটে বা কামড় পরীক্ষা করেও ধর্ষকের চিহ্ন পাওয়া সম্ভব। ধর্ষকের কোনো অসুখ ছিল কিনা বা সে এইচআইভি আক্রান্ত ছিল কিনা এ সব যত দ্রুত জানা যায়, ততই মঙ্গল। আর এর জন্য যত তাড়াতাড়ি ঐ ‘মেডিকাল টেস্ট’-টি হওয়া প্রয়োজন। ধর্ষণের ফলে কোনো নারী গর্ভবতী হলে, সেটা দ্রুত আটকানোর পন্থাও (একটা সাধারণ ট্যাবলেটের মাধ্যমে) নেওয়া সম্ভব একমাত্র সঠিক সময়ে ঐ ডাক্তারি পরীক্ষাটি সম্পন্ন হলে। সর্বপরি ধর্ষণের শিকার নারীদের মানসিক ও শারীরিক সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজন পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং সমাজের বন্ধুবৎসল আচরণ।

লেখকঃ মোহাম্মদ সাব্বির রহমান
অফিসার ইনচার্জ, নানিয়ারচর থানা।

সর্বশেষ নিউজ