৫, ডিসেম্বর, ২০২০, শনিবার

ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যকে মানুষ গুরুত্ব দেয় না- দাবি নজরুলের

বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে ষড়’যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ওবায়দুল কাদেরের অনেক মন্তব্য আছে যেটা নিয়ে মন্তব্য করার কোনো প্রয়োজন বোধ করি না। কারণ মানুষ তার কোনো মন্তব্যকে গুরুত্ব দেয় না।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, একটা প্রশ্ন করতে চাই তাকে (ওবায়দুল কাদের), তারা ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিলেন তারা কি পদত্যাগ করেছিলেন না তারা রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছিলেন? এখন তো ২১ বছর হয়নি তাই তাদের মুখে এসব কথা শোভা পায় না।

তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ করোনায় আক্রা’ন্ত। কী দুর্ভাগ্য আমাদের দেশে কতজন ভাইরাসে আক্রা’ন্ত হয়েছে এবং কতজন মৃ’ত্যু হয়েছে সেই তথ্য সরকার যা দিচ্ছে জনগণ তা বিশ্বাস করে না। অর্থাৎ এই সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আমরা এটাও দেখতে পাচ্ছি, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় এটা প্রমাণিত হচ্ছে, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় না, যেই সরকারের নৈতিক ভিত্তি নেই সেই সরকারের আমলে তাদের মন্ত্রীদের ভোট দিতে ক’ষ্ট হয়, তাদের দলের নেতাদের ভোট দিতে ক’ষ্ট হয় এবং সবাই স্বে,চ্ছাচারী হয়ে যায়। যার প্রমাণ আমরা দেখলাম কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর মেজর সিনহার ঘটনা এবং কয়েকদিন আগে আমরা দেখলাম একজন নৌবাহিনীর কর্মকর্তার ঘটনা।

তিনি বলেন, এই যে স্বে’চ্ছাচারী মনোভাব, এই মনোভাব দূর হওয়া কিংবা তাদের দুর্নীতি অ’ন্যায় অ’নাচার থেকে বের হওয়ার একটাই পথ; আর সেটা হলো জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা। আর সেটা সম্ভব শুধুই অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। আর তার জন্য প্রয়োজন ক্ষমতায় একটি নিরপেক্ষ সরকার থাকা ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন থাকা।

নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, জনগণের দাবি, নিরপেক্ষ একটি সরকারের অধীনে এবং একটি যোগ্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক। সেই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে যাদের নির্বাচিত করবেন, তারা রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার দায়িত্ব নিবে। তাদের যেহেতু জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে, জনগণকে জবাবদিহিতা করতে হবে সেহেতু সেই দলের কোনো মন্ত্রী কিংবা এমপি বা সেই দলের কোনো নেতা দুর্নীতিবাজ কিংবা স্বে’চ্ছাচারী হতে পারবে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে এই ঢাকা শহরে মাত্র শতকরা ৫ ভাগ মানুষ ভোট দিতে যায়। তার মানে ভোট প্রক্রিয়া, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন এই প্রক্রিয়াগুলোর উপর মানুষ বির’ক্ত হয়ে যাচ্ছে, মানুষ হতা’শ হয়ে যাচ্ছে, মানুষ নি’রাশ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ মানুষ গণতন্ত্র সম্পর্কে হতা’শ হয়ে যাচ্ছে এটা হতে দেয়া যাবে না। কারণ, মহান মুক্তিযু’দ্ধের সমন্বিত ফসল গণতন্ত্রকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। আর সেই রক্ষা করার লক্ষ্যে আমাদের চেয়ারপারসন গণতন্ত্রের উদ্ধারকর্তা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমি বিশ্বাস করি জাতীয়তাবাদী যুবদল অতীতের মতো এই ল’ড়াইয়ে এবারও সামনের সারিতে থাকবে।

বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার দাবি জানিয়ে যে জেলের আদেশ দেয়া হয়েছে তা বাতিল করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান বিএনপির এই নীতিনির্ধারকের।

তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে, মহান মুক্তিযু’দ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের সার্থে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আজ জনগণের খুবই প্রয়োজন। জনগণ চায় তাদের মাঝে দেশনেত্রী ফিরে আসুন এবং তাদেরকে নেতৃত্ব দিন।

সর্বশেষ নিউজ