১, ডিসেম্বর, ২০২০, মঙ্গলবার

বেল্ড এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ নাকি কোয়াড বলয়ে বাংলাদেশ?

দ্যা বেল্ড এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরটি হল বর্তমান শতকের সবচেয়ে সাড়া জাগানো একটি অর্থনৈতিক প্রকল্প। প্রধানত ইউরেশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতার উপর গুরুত্বারোপ করে গণচীন সরকার শি জিং পিং একটি অর্থনৈতিক বলয় (সিল্ক রোড ইনিশিয়েটিভ) এবং সামুদ্রিক রেশম পথ গঠন করার মাধ্যমে একটি অর্থনৈতিক বলয় নির্মানের কথা ভাবেন যা নয়ারেশম পথ নামেও পরিচিত। এটি হচ্ছে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রকল্প। ৬৮ টি দেশ, ৬০শতাংশ বিশ্ব জনসংখ্যা ও ৪০ শতাংশ উৎপাদন নিয়ে এই রেশম পথ গঠিত হবে। তবে এশিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তারের অন্যতম কৌশল হিসেবে বেল্ড এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে ভাবা হচ্ছে । আমেরিকাকে ছাড়িয়ে বিশ্ব-রাজনীতিতে চীনের অবস্থান এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণে পাকাপোক্ত করে নিতে চাইছে। এদিকে ভাবা হচ্ছে, চীন-ভারত সম্পর্ক তিক্ততার চূড়ান্ত পর্যায়ে নতুন করে প্রতিরক্ষা সামরিক জোট হিসেবে আত্মাপ্রকাশ করতে পারে কোয়াড(কোয়াড্রিল্যাটেরকল সিকিউরিটি ডায়ালগ)। সম্প্রতি কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর জাপান বৈঠকের ফলে এই ধারণা আরও পাকাপোক্ত হয়ে দাড়িয়েছে।

কোয়াডের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চীন দাবি করে আসছে, একটা দেশের বিরুদ্ধে চারটি দেশের বিপক্ষ-যোগসাজস সম্পূর্ণ শান্তি-বিদ্ধংসী। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার মার্কিন বলয়ের চারদেশ চীন নিয়ে এতদিন প্রশ্ন না তুললেও চীন-ভারত সম্পর্ক যুদ্ধ মনোভাবে রূপান্তরিত হওয়ার ফলে এ আলোচনা এখন সম্পূর্ণ চীন বিরোধী মোড় নিচ্ছে। তাই এই ভৌগলিক অংশে দুই বলয়ের শক্তি বৃদ্ধির নজর এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর উপর পড়বে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার নির্বাচিত হয়ে আসলে এই মনোভাব আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। কিন্তু জো-বাইডেন কী নীতি নিয়ে এগুবে সে বিষয়টা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্তু যেই ক্ষমতায় আসুক মার্কিন প্রসাশন সবসময় নিজের স্বার্থের বেলায় আপোশহীন এটি সবারই জানা।তাই এখনো চলছে অপেক্ষাকৃত ছোট রাষ্ট্র কিংবা বাফার-স্টেট গুলোকে নিজেদের দলে ভেড়ানোর প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ একটি অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে সন্দেহ নেই।কিন্তু প্রশ্ন এখানেই কোন বলয়ে ঢুকবে বাংলাদেশ?

ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং মহাসাগর তীরের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র। এমনকি সামরিক খাতে খরচের দিক থেকে ভারত বর্তমান বিশ্বে তৃতীয়।তাছাড়া বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে অনেক ব্যাপারেই বাংলাদেশকে ভারতের মুখপানে চেয়ে থাকতে হয়। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশে অনেকগুলো বৃহৎ প্রকল্পের সাথে জড়িত।বাংলাদেশের বাণিজ্যিক দিক হতেও চীন আমাদের অন্যতম সম্ভাবনা।
বিআরটি প্রকল্পে বিশ্লেষকগণ নয়া উপনিবেশবাদের গন্ধ পাচ্ছেন। তারা মনে করছেন এটা দূর্বল রাষ্ট্রসমূহকে ঋণের জালে বেধে ফেলবে। তাছাড়া এটিকে পুঁজিবাদের বৈশ্বিক বিস্তারের পদক্ষেপ হিসেবেও চিন্তা করা হচ্ছে। তাই হুটহাট করে বাংলাদেশের মত সদ্য উন্নয়নশীল দেশের এখনই বৈশ্বিক রাজনীতির মাঠে প্রবেশ বোধহয় সমীচীন হবে না। যদিও চীন সরকার বাংলাদেশ সফরকালে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অনেক সবুজ সংকেত দিয়েছেন। তবে চীন, ভারত দুটি রাষ্ট্রকেই আমাদের প্রয়োজন কিন্তু এটাও ভাবতে হবে রোহিঙ্গা প্রশ্নে দুইদেশেরই অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ। তাই এইসময় দেখে পা ফেলানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

মোঃশাকিল হোসেন
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মোবাইল-০১৭৭৯৮১৫০২৭
sakilahsan144@gmail.com

সর্বশেষ নিউজ