৩০, নভেম্বর, ২০২০, সোমবার

চেয়ারম্যান হওয়ার আগেই নানান প্রতারণার অভিযোগ জাসদ নেতার বিরুদ্ধে

মিজানুর রহমান নয়ন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : প্রতিবন্ধী ভাতা, সরকারি ঘর দেওয়া, শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সরকারি টিন দেওয়া,চাকুরী দেওয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ নেওয়া, আইনী সহায়তা পাইয়ে দিতে পুলিশ ও ডাক্তারের নাম ভাঙিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা,দশ টাকা কেজির ভাল চাল দেওয়ার কথা বলে বস্তা প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া সহ সাধারণ জনগণের সাথে নানাবিধ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম জামান নামের এক জাসদ নেতার বিরুদ্ধে।তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা জাসদের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাক, উপজেলা কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও আসন্ন নির্বাচনে ৭ নং বাগুলাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।

এছাড়াও নিজে অঘোষিত কেয়ারটেকার দাবি করে ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউনিয়ন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোয়ার্টার ১৫ বছর বেদখল করে রাখারও অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন গেলে বাগুলাট ইউনিয়নের শালঘর মধুয়া গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী। একবছর আগে ভাতার কার্ড করার কথা বলে এক হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছে জামান।এখন ভাতাও দিচ্ছেনা, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।নিজাম বলেন, সরকারি ঘর করে দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে দুই বছর আগে।টাকা ফেরত চাইলে আজ দিব কাল দিব করে।ছের আলী বলেন, জামান চিটারের ১০ কেজি চালের ডিলার আছে।আমার চালের কার্ড আছে।প্রতিবার চাল আনতে গেলে জামান বলে এবার তো ভাল চাল, আনতে খরচ হয়েছে।বস্তা প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দিতে হবে।তিনি আরো বলেন, বেশি না দিলে ঝামেলা করে, তাই ৩০০ টাকার বদলে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা দিয়ে চাল কিনি।

বাবাখোর গ্রামের আকমালের ভাই বলেন, আমাদের দুই ভাইয়ের মারামারি হয়েছিল ৫ মাস আগে।সেসময় জামান নেতা থানায় জিডি করার জন্য প্রথমে ৩ হাজার, মামলা করার জন্য ৬ হাজার, ফাইনাল চার্টশীটের নাম করে ৬ হাজার, দারোগা বদলি হওয়ায় নতুন দারোগাকে ৫ হাজার এবং মেডিকেল সার্টিফিকেটের জন্য ডাঃ আকুল কে দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার ৫০০ টাকা সহ প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ টাকা প্রতারণা করে নেই জামান চিটার।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে এক বছর আগে ৬ হাজার টাকা নিয়েছে জামান। এছাড়াও ঘরের টিন দেওয়ার কথা বলে নেয় ৪ হাজার টাকা। টাকা চাইলেই দলীয় প্রভাব খাটায় সে।নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন দোকানী বলেন, আমার কিডনির সমস্যা ছিল।জামান অনুদান পাওয়ার কথা বলে প্রথমে ২ হাজার ৬৩০ টাকা এবং পরে ২ হাজার ৭৫০ টাকা নেই জামান।কিন্তু আজও চেক পাইনি।

জানা যায় বাগুলাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ইউনুস মাস্টার প্রতারক জামানের বাল্যকালের বন্ধু।দীর্ঘদিন একসাথে ওঠাবসা করায় অগাধ বিশ্বাস ছিল তাদের।কিন্তু মাষ্টার শালাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চাকুরীর কথা বলে স্টাম্পে লিখিত সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জামান।চার বছর পার হলেও দেয়নি চাকুরী বা টাকা ফেরত।এছাড়াও বন্ধুত্ত্বের সুযোগ নিয়ে ফাকা চেক দিয়ে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাওলাত নিয়েও ফেরত দেয়নি জামান।পরে চেকের মামলা দায়ের করা হয়।

এবিষয়ে স্কুল মাষ্টার ইউনুস বলেন, আমার কাছ থেকে চেকের বিনিময়ে ৩ লক্ষ ৮০ টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ায় চেকের মামলা করেছি এবং আমার শালাকে চাকুরী দেওয়ার নাম করে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা নিয়েছে জামান।তিনি আরো বলেন, আমি ঘনিষ্ঠ বন্ধ হয়ে বলছি জামানের মত চিটার বাটপার প্রতারকদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

এবিষয়ে জানতে জাসত নেতা জামানের সরকারি কোয়ার্টার বাসায় গিয়ে জামানকে পাওয়া না গেলে কথা বলা হয় তার স্ত্রীর সাথে।জামানের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কোনদিনও শুনিনি।হয়তো চেয়ারম্যানে দাঁড়ানোর খবর পেয়ে প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার করছে।সরকারি কোয়ার্টারে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার স্বামী জাসদের বড় নেতা, উপরে হাত আছে, তাই নেতাদের ম্যানেজ করে থাকি।

এবিষয়ে জাসদ নেতা ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এস এম জামান বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। চেয়ারম্যানী নির্বাচন করব।তাই প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার চালাচ্ছে।কোয়ার্টারে বসবাস করার বিষয়ে তিনি বলেন, অঘোষিত কেয়ারটেকার হিসেবে প্রায় ১৪-১৫ বছর বসবাস করছি।কর্তৃপক্ষ বললে চলে যাব।

এবিষয়ে বাগুলাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল সরকার বলেন, লোকমুখে নানান প্রতারণার কথা শুনেছি জামানের বিরুদ্ধে।তবে লিখিত পাইনি।তিনি আরো বলেন, সরকারি জায়গা অনিয়ম করে বসবাস করছে।বিষয়টি কৃষি অফিসারকে মৌখিক একাধিক বার জানিয়েছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার দেবাশীষ কুমার দাস বলেন, করোনা ভাইরাসের পূর্বে মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু করোনার কারনে বিষটি আর দেখা হয়নি।

সর্বশেষ নিউজ