১, ডিসেম্বর, ২০২০, মঙ্গলবার

ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে তরুণী আটক

বগুড়ার শেরপুরের বাগড়া চকপোতা গ্রামের মাদ্রাসাছাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছে।

এতে এলাকাবাসী শাস্তির দাবিতে বাগড়া চকপোতা ওই বাড়ির সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও ওই তরুণীর বাড়ি ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানা পুলিশ গত রোববার রাতে মাদ্রাসাছাত্রী সুমনা আক্তার পুতুলকে (১৮)আটক করেছে। আটককৃত পুতুল শেরপুর বাগড়া চকপোতা গ্রামের মেয়ে।

জানা যায়, উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের বাগড়া চকপোতা গ্রামের সামছুল হকের মেয়ে শেরপুর শহীদিয়া কামিল আলিয়া মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী সুমনা আক্তার পুতুলের সঙ্গে হিন্দু ধর্মের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত দুর্গাপূজার সময় ওই ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যায় এবং নাম পরিবর্তন করে পুতুল রানী হয়ে মাথায় সিঁদুর দিয়ে পূজার পর বাবার বাড়িতে আসে। পরিবারের লোকজন তার মাথায় সিঁদুর দেখে হতবাক হয়ে যান।

এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সে বাড়ি থেকে চলে যায়। এরপর সে মনের ক্ষোভে পুতুল রানী নামের ফেসবুক আইডি খুলে সেখান থেকে মহান আল্লাহতায়ালাকে বিভিন্ন অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কটূক্তি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে।

বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হওয়ায় স্থানীয় লোকজন পুতুলের শাস্তির দাবিতে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাগড়া চকপোতা এলাকায় তার বাবার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

এ বিষয়ে পুতুলের পিতা সামছুল হক বলেন, এ ধরনের ঘটনার কথা শুনেছি। এখন আমি তাকে মেয়ে বলে স্বীকার করি না। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করায় তার শাস্তি আমিও চাই।

সুমনা আক্তার পুতুল ওরফে পুতুল রানীর বড় ভাবি বলেন, সুমনা আক্তারের সঙ্গে কোনো এক হিন্দু ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূজার আগে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে চলে যায়। পূজার পর সে মাথায় সিঁদুর দিয়ে বাড়িতে আসে। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায় আমার শ্বশুর পুতুল রানীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

শেরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম মহিদ জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা করা হবে। পুতুল গাজীপুর থাকার কারণে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ তাকে আটক করেছে। বর্তমানে সেখানেই আছে।

সর্বশেষ নিউজ