৩০, নভেম্বর, ২০২০, সোমবার

সেই তোতলা ছেলেটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট

দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষ হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯তম নির্বাচনে ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেন। শনিবার জো বাইডেনকে পেনসিলভ্যানিয়া ও নেভাদাতে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ভোটের হিসাবে বাইডেন পেয়ে যান ২৯০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। তবে অ্যারিজোনা ও নেভাদাতে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী বলতে রাজি না। তাদের হিসাবে ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ২৭৩।

এ দিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে ভাবেই হোক ভোটযুদ্ধে বাইডেন ২৭০ ইলেকটোরাল ভোটে ‘ম্যাজিক্যাল ফিগার’ নিশ্চিতভাবে পেরিয়ে গেছেন। তাই বলা যায় ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন ক্ষমতা পাচ্ছেন।

এক নজরে দেখে নিন বাইডেনের রাজনৈতিক জীবন-

জন্ম ও পরিবার
১৯৪২ সালের ২০ নভেম্বর ক্যানটন পেনসিলভ্যানিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন জোসেঢ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র বা আজকের ‘জো বাইডেন’। জীবনের প্রথমভাগ বাইডেন কাটান দাদা-দাদির সাথে। পরিবারের আর্থিক অনটন থাকলেও বাইডেন স্কুলজীবনে তুখোর ফুটবল, বেসবল খেলোয়ার ছিলেন। যা পরে বিশ্ববিদ্যালয়েও তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। জানা যায়, ছোটবেলায় বাইডেন কথা বলতে গেলে তোতলাতেন, যা কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে পরে নিয়ন্ত্রণে আনেন তিনি।

বাইডেনের যত নাম
বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে বাইডেনের নামের সাথে জুড়েছে নানা ধরনের বিশেষণ। জীবনের গোড়ার দিকের অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে কখনো তার নাম হয়েছে ‘মিডল ক্লাস জো’। বর্তমানে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের সময় বয়সের কারণে ডনাল্ড ট্রাম্প তাকে তাচ্ছিল্য করে বলেন ‘স্লো জো’ ও ‘স্লিপি জো’।

তারুণ্য
প্রথম ইতহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হবার পর আইনে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করতে বাইডেন পাড়ি দেন নিউইয়র্কের সাইরাক্যুজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেই তার পরিচয় নেলিয়া হান্টারের সঙ্গে। ১৯৬৬ সালে নেলিয়া ও বাইডেন বিয়ে করেন।

রাজনীতিতে পদার্পণ
১৯৭২ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে ডেলাওয়ারে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান সিনেটর কেলেব বগসের বিরুদ্ধে ডেমোক্রাট পার্টি হিসেবে নির্বাচনে লড়েন বাইডেন। অর্থভাবে রাজনীতির ময়দানে অনঅভিজ্ঞ সত্ত্বেও পারিবারিক সহায়তা ও মাঠপর্যায়ে প্রচার চালিয়ে গবসকে পরাজিত করেন বাইডেন। সেখান থেকেই ডেমোক্রাট হিসেবে কা উথ্থানের সূত্রপাত।

পরিবারিক বিপর্যয় ঘটনা
সেনেটর নির্বাচিত হবার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাইডেনের জীবনে আসে বিপর্যয়৷ একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী নেলিয়া ও কন্যা নাওমি মারা যান। এসময় মারাত্মকভাবে জখম হন তার দুই ছেলেও ৷ এই বিপর্যয়ের কারণে রাজনীতি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন বাইডেন৷ কিন্তু দলের জোরাজুরিতে হাসপাতালেই সেনেটর পদে শপথগ্রহণ করেন বাইডেন৷ পরে ১৯৭৭ সালে জিল জেকবসকে বিয়ে করেন বাইডেন৷ তাদের একটি কন্যা রয়েছে, নাম অ্যাশলি৷

রাজনীতিতে অপ্রতিরোধ্য বাইডেন
বাইডেন এর পারিবারিক জীবনে দ্বিতীয় দফায় বিপর্যয় আহে ২০১৫ সালে। ভাইস-প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ব্রেন টিউমারজনিত জটিলতায় তিনি তার ছেলে জোসেফকে হারান৷ পরের বছর ২০১৬ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসাবে লড়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরিবারকে সময় দিতে নির্বাচন থেকে সরে আসেন বাইডেন৷ এবছর পূনরায় তার সেই চেষ্টা সফল হয়ে ধরা দেয়।

রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
রাজনীতির মাঠে বাইডেন ক্রেতা সুরক্ষা ও পরিবেশ বিষয়ক ইস্যু নিয়ে সোচ্চা থাকছেন। ২০১০ সালের ‘পেশেন্ট প্রোটেকশান অ্যান্ড অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার’ আইনের বাস্তবায়নে তার ভূমিকার কথা বারবার আলোচিত হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, ১৯৯২ সাল থেকেই আইনি কড়াকড়ি বাড়ানো ও সাজার মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে তার দলের নীতির সাথে পুরোপুরি খাপ খায়নি।

বরাবরই বাইডেন ছিলেন বিতর্কে
রাজনীতির মাঠে ১৯৮৮ সালের নির্বাচনি প্রচারের সময় বাইডেনের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ লেবার পার্টির নিল কিনকের বক্তব্য চুরির অভিযোগ উঠেছিল। এরপর অ্যামেরিকার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ণভিত্তিক বিভেদপন্থিদের সাথে সুর মিলিয়ে আদালতের রায়ের বিরোধিতা করে সমালোচিত হন জো বাইডেন। এ ছাড়াও ২০১২ সালেও সমকামী জুটিদের বিয়ের অধিকারের পক্ষে কথা বলে বাইডেন শিরোনামে উঠে আসেন৷ সে সময় বিভিন্ন প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রাট প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন জো বাইডেন। তার পক্ষে ব্যাপকভাবে প্রচারে নেমেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। টুইটারে ইন্সটাগ্রামে পাশে দাঁড়ান সেলিব্রেট্রিরা।

সর্বশেষ নিউজ