৩০, নভেম্বর, ২০২০, সোমবার

নরসিংদীতে ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে অবৈধ জ্বালানি তেলের রমরমা ব্যবসা

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী: নরসিংদী জেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবৈধভাবে জ্বালানি তেলের বিপজ্জনক ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। বাড়ছে অবৈধ তেল চুরির দোকানের সংখ্যাও।
এর ফলে নরসিংদীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশে পাশের পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া এসব অবৈধ দোকানের জ্বালানি ব্যবহারে কমে যাচ্ছে যানবাহনের আয়ুষ্কালও।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী জেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশে পাশে ৩৬টি পাম্পের জ্বালানি তেল বিক্রির অবৈধ দোকান রয়েছে। অথচ সকল নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে এসব অবৈধ তেলের দোকানগুলো প্রতিনিয়ত তেল চুরি করে আসছে।

এদিকে আজ ১২ ই নভেম্বর কুন্দারপাড়া এলাকায় গাড়ি থেকে তেল চুরি করে বিক্রি করা চালক মোঃ কাশেম বলেন, আমরা গাড়ি থেকে প্রতিনিয়ত বাড়তি লাভের আশায় ৩০ লিটার করে প্রায় সময়ই বিক্রি করি তেল। লিটার প্রতি আমরা ৫০ টাকা বিক্রি করি। এসব তেল চুরি করা দোকানগুলো সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে, এমনকি কোন বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠান এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদকর্মী রুদ্র সরেজমিনে গিয়ে দেখেন যে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এসব অবৈধ তেল চুরির দোকানগুলো দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে দোকানদারদের জিজ্ঞাসা করলে তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রত্যেকটা দোকান থেকে হাইওয়ে পুলিশ ও থানায় মাসিক মাসুহারা দিয়ে দোকান চালাতে হয়। আর তা না হলে আমাদের অনেক হয়রানি করা হয়। আমরা এই হয়রানি থেকে বাঁচার জন্য দিচ্ছি মাসিক মাসুহারা।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ ধরনের দোকান সর্বাধিক। এসব নিম্নমানের ভেজাল তেল ব্যবহার করায় গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি তো হয়ই, এর কালো ধোঁয়া পরিবেশও দূষিত করে। এই তেলে যাত্রীদের চোখ জ্বলে এবং ইঞ্জিন থেকেও বেশি শব্দ হয়। এছাড়াও আপাত দৃষ্টিতে টাকার সাশ্রয় হচ্ছে মনে হলেও ভালো তেলের তুলনায় এসব ভেজাল চোরাই তেলে গাড়ীর মাইলেজ কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরে মতে, ভেজাল মিশ্রিত তেল বিক্রি করে একদিকে যেমন অবৈধ ব্যবসায়ীরা অনুমোদিত তেল ব্যবসায়ীদের লোকসান করাচ্ছেন, তেমনি গাড়ীরও ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছেন। ’

সর্বশেষ নিউজ