৩০, নভেম্বর, ২০২০, সোমবার

কুমারখালীর সেই স্কুল শিক্ষক ভূয়া কাজী শরিফুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত কাজী না হয়েও নিজেকে কাজী দাবি করে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে বিবাহ ও তালাক দেওয়ার মত কাজ চালিয়ে আসছেন ভূয়া কাজী শরিফুল ইসলাম হেলালী। নিয়োগপ্রাপ্ত কাজীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বাল্যবিবাহ থেকে বিরত থাকলেও এই ভূয়া কাজী অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বাল্য বিবাহ সম্পন্ন করে থাকেন।শুধু তাই নয়, নিজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বিয়েতেও ভূয়া কাবিননামা বানিয়েছেন এই ভূয়া কাজী।দুইজন রেজিস্টার প্রাপ্ত কাজীর এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়াই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

ভূয়া কাজী শরিফুল ইসলাম হেলালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ধর্মপাড়া গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলামের ছেলে ও ভালুকা শহীদ শেখ সদর উদ্দিন নিম্ন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক এবং চাপড়া জামে মসজিদের ইমাম।

এতথ্য নিশ্চিত করে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয় যে, ভালুকা শেখ সদর উদ্দীন নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক জনাব মোঃ শরিফুল ইসলাম হেলালী (৫৫) এর বিরুদ্ধে ভূয়া কাজী পরিচয় দিয়ে অবৈধ বিবাহ পড়ানো এবং বাল্য বিবাহ পড়ানো সংক্রান্ত দুজন নিকাহ রেজিস্টারের নিকট হতে পাওয়া অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার,কুমারখালী, কুষ্টিয়া এর নিকট হতে পাওয়া গেছে।এমতাবস্থায় উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক এ কার্যালয়ে অবিহিত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হল। তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।তবে কি ব্যবস্থা নেওয়া হল তা আগামী সোমবার জানানো হবে।

জানা গেছে, ভূয়া কাজীর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন চাপড়া ইউনিয়নের রেজিস্টার কাজী তৌহিদুল ইসলাম তুহিন ও যদুবয়বা ইউনিয়নের কাজী রেজাউল করিম।অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই রোববার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।শুনানীতে অভিযোগের কথা স্বীকার করে ভূয়া কাজী শরিফুল ইসলাম হেলালী বলেন,দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে রেজিস্টার করে আসছি।আমার ভুল হয়েছে।আমি আর এমন কাজ করব না।তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ের বিয়েতেও ভূয়া কাবিননামা তৈরি করেছি।

সর্বশেষ নিউজ