২৮, নভেম্বর, ২০২০, শনিবার

বেতন স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা

সরকারি যেসব কর্মচারীর চাকরির বয়স ১০ বছর হয়েছে তাদের উচ্চতর গ্রেড দিতে কোনো বাধা নেই। তবে একই পদে ১০ বছর চাকরি করা অবস্থায় কোনো পদোন্নতি বা টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড একবারও পাননি তারাই এ সুবিধা পাবেন।

অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি যেসব কর্মচারী একই পদে ১০ বছর চাকরি করার পর একবারও পদোন্নতি পাননি তাদের ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেড দেয়ার ক্ষেত্রে গত ১৬ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মতামত চেয়ে চিঠি দেয় হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। এ প্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ গত ১৩ সেপ্টেম্বর হিসাব মহা নিয়ন্ত্রকের নিকট চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫ এর অনুচ্ছে ৭ (১) এর অধীনে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণে কোনো বাধা নেই।

এদিকে ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের এক পরিপত্রে বলা হয়েছিল একই পদে কর্মরত কোনো সরকারি কর্মচারী দুই বা তার চেয়ে বেশি টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন পে স্কেল অনুযায়ী তিনি উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। তবে এরই মধ্যে একটিমাত্র টাইম স্কেল অথবা সিলেকশন গ্রেড পেলে নতুন স্কেলে শুধু একটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন।

জানা গেছে, সরকারি চাকরিতে নিচের স্তরের কর্মচারীদের পদোন্নতির সুযোগ সীমিত।

সরকারি চাকরিতে পদোন্নতিবঞ্চিতদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বহুল আলোচিত টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের পুরনো প্রথা জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ এ বাতিল করেছে। নতুন বেতনস্কেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেড প্রথা প্রবর্তন করা হয়। সেখানে বেতন স্কেলে ২৯১৫ এর অনুচ্ছেদ ৭ (১) অনুযায়ী কোনো কর্মচারী একই পদে ১০ বছর চাকরি করার পর পদোন্নতি না পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন। এর মধ্যে একটি পাবেন চাকরির ১০ বছর পর ১১তম বছরে। অপরটি ১৬ বছর পর ১৭তম বছরে। কিন্তু সূল পে স্কেলে এ বিধান করা হলেও এ সুবিধা কীভাবে দেওয়া হবে সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা না থাকায় এতো দিন তা কার্যকর করতে পারেনি।

এ প্রেক্ষাপটে মূল পে স্কেলে দেওয়া উল্লেখিত নিয়ম কার্যকর করতে স্পষ্টীকরণের ব্যাখ্যা দিয়ে ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগে একটি পরিপত্র জারি করে। কিন্তু ওই পরিপত্রের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিজীবীরা রিট করে। এরপর সরকারি চাকরিজীবীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিষয়ে অর্থ বিভাগের দেওয়া পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের স্পষ্টীকরণ করে দেওয়া ব্যাখ্যা মূল পে স্কেলের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ফলে এ সংক্রান্ত পরিপত্রটি অবৈধ। পরে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে আপিল করে।

এদিকে, গত ৫ নভেম্বর এক আদেশে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর ৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চতর গ্রেড মঞ্জুরির বিষয়ে মতামত প্রদান করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী উচ্চতর স্কেল প্রদান সম্পর্কিত আপিল মামলায় মহামান্য আপীল বিভাগ কর্তৃক পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ২৩২ নং পরিপত্র এবং জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৪ এর ৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উচ্চতর স্কেল প্রদান করা যাবে।

সর্বশেষ নিউজ