১, ডিসেম্বর, ২০২০, মঙ্গলবার

রশিদ ছাড়াই টিউশন ফি আদায়ের অভিযোগ, বিভ্রান্তিতে শিক্ষার্থীরা

মিজানুর রহমান নয়ন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চৌরঙ্গী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম মিলনের বিরুদ্ধে টাকার রশিদ ছাড়াই ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৯ মাসের বেতন হিসেবে ৪৫০ টাকা থেকে ৭২০ টাকা পর্যন্ত টিউশন ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাঠদান বন্ধ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে শিখন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তির নির্দেশনা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু টাকা না দিলে মূল্যায়ন পরীক্ষার খাতা জমা ও প্রশ্নপত্র বিতরণ করছে না বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শনিবার সকালে সরজমিন গেলে উপরোক্ত অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।আশেপাশের স্কুল গুলোতে কোন টাকা লাগছেনা, আবার এখানে টাকা নিলেও রশিদ দিচ্ছেনা।ফলে বিভ্রান্তির মধ্যে আছি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

হাতে মূল্যায়ন খাতা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথিমধ্যে নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বলেন, মূল্যায়ন খাতা জমি দিয়ে পরবর্তী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আনতে গিয়েছিলাম স্কুলে।হেড স্যার বলল, যারা টাকা নিয়ে এসেছ এবং যারা উপবৃত্তি পাও তারা ছাড়া বাকীরা বাড়ি চলে যাও।কাল ৬৩০ টাকা করে নিয়ে আসবা।নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি খাতার সাথে ৭২০ টাকা দিয়েছি।তবে কোন রশিদ দেয়নি।

রশিদ ছাড়াই টিউশন ফি আদায়ের বিষয়টি অভিভাবকদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় একাধিক অভিভাবক মুঠোফোনে বলেন, হেড স্যার ব্যবসা খুলে বসেছে। কোন স্কুলে টাকা লাগেনা।এরা শুধু টাকা টাকা করে।আবার রশিদ দেয়না।বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসা দরকার।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, নির্দেশনা মোতাবেক শুধু বেতন নেওয়া হচ্ছে। পান্টি,এমএন, গার্লসহ সব স্কুলেই নেওয়া হচ্ছে। রশিদ ছাড়ায় অন্যান্য স্কুল টিউশন ফি গ্রহন করছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হেড স্যার জানে।

এবিষয়ে কুমারখালী সরকারি পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম এবং পান্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ ওবাইদুল হক দিলু মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে টিউশন ফি গ্রহনের ঘোষণা হয়েছে তবে নির্দেশনা হাতে পাইনি।তারা আরো বলেন, টিউশন ফি অবশ্যয় রশিদের মাধ্যমে নিতে হবে।তবে যাদের অসৎ উদ্দেশ্য থাকে,তারা হয়তো রশিদ ব্যবহার করেনা।

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম মিলন আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষা অফিস নয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুসারে ৯ মাসের বেতন নেওয়া হচ্ছে।তবে এখনই রশিদ দিচ্ছিনা।সুবিধামত সময়ে শিক্ষার্থীদের রশিদ দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী এবং কোন শ্রেণিতে কতজন শিক্ষার্থী আছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সঠিকতো বলা যাচ্ছেনা, তবে আনুমানিক ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১৩০ জন, সপ্তমে ১৩৫, অষ্টমে ১৪০, নবমে ১১৩ জন থাকতে পারে। তিনি আরো বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণিত মাসিক ৫০ টাকা হারে ৯ মাসে ৪৫০ টাকা, সপ্তম ও অষ্টমে মাসিক ৭০ টাকা করে ৬৩০ টাকা এবং নবম শ্রেণিতে মাসিক ৮০ টাকা করে ৭২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ মুঠোফোনে বলেন, টিউশন ফি গ্রহণের নির্দেশনা এখনও শিক্ষকদের দিইনি।তবে টিউশন ফি’র টাকা অবশ্যয় মানি রশিদের মাধ্যমে নিতে হবে।

সর্বশেষ নিউজ