২২, নভেম্বর, ২০২০, রোববার

উত্তরে জেঁকে বসেছে শীত

প্রকৃতিতে এখন হেমন্তকাল। কিন্তু এখনই উত্তরের লালমনির হাট, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত। দিনে মেঘলুপ্ত সূর্যের খরতাপ আর রাতে পড়ছে হালকা থেকে ঘন কুয়াশা। হঠাৎ চলে আসা এই ঠান্ডার সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। অনেকে অসুস্থ হতেও শুরু করেছে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে লালমনিরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ১৬ ঘরে নেমেছে। রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা লালমনিরহাটে রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিন দিন তাপমাত্রা আরো কমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা এখন উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই জেলায় তাপমাত্রা উঠানামা করছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। রোববার সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল সন্ধ্যায় তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শীতের দাপট। এই দাপট থাকে আজ সকাল পর্যন্ত। কয়েক দিন কুয়াশার দেখা না মিললেও আজকে দেখা মিলেছে ঘন কুয়াশার। এই কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া। সকাল আটটা পর্যন্ত থাকছে কুয়াশার আমেজ।

এদিকে শীতের দাপট বাড়ায় বিপাকে পড়েছে শিশু, বৃদ্ধ এবং খেটে খাওয়া মানুষ। শীতের প্রকোপ আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, লঘু চাপের প্রভাবে হালকা বৃষ্টি কেটে আজ রোববার থেকে রোদেলা আবহাওয়ার দেখা মিলবে। তবে শুস্ক আবহাওয়ায় রাতের তাপমাত্রা কমে শীতের অনুভূতি বাড়ার সঙ্গে মধ্যরাত থেকে কুয়াশারও দেখা মিলবে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, নভেম্বর মাসের শেষদিকে আবহাওয়ায় ঠান্ডা ভাব বিরাজ করে। উত্তরের হাওয়া না বইলেও ঝিরঝির বৃষ্টি শীতের অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়।

হেমন্তে সন্ধ্যা-রাত-ভোরে কুয়াশা থাকা বা হালকা বৃষ্টি অস্বাভাবিক কিছু নয়। ঝিরঝির বৃষ্টির প্রবণতা কমে এলেও আগামী তিন দিন রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমতে পারে।

ডিসেম্বরের শেষার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও আভাস রয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ