৫, মার্চ, ২০২৪, মঙ্গলবার
     

সু চির কারাদণ্ড দুই বছর কমিয়েছে জান্তা সরকার

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চিকে গণ অসন্তোষে উসকানি ও করোনা বিধি লঙ্ঘনের দায়ে দেওয়া চার বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে দুই বছর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চার বছরের কারাদণ্ডের বিষয়টি জানা গেলেও মিয়ানমারের জান্তা সরকার তাঁর সাজা দুই বছর কমিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী-নিযুক্ত সরকার প্রধানের আংশিক ক্ষমারভিত্তিতে সু চির কারাদণ্ড কমানো হয়েছে।

সোমবার মিয়ানমারের সাবেক প্রধান অং সান সুচির বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করেছে সেনা আদালত। তাকে এবং দেশের সাবেক প্রেসিডেন্টকে চার বছরের জন্য জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে অবশ্য সেনা সরকার জানায়, চার নয়, দুই বছর জেলে থাকতে হবে সুচিকে।

কেন জেল

মাসকয়েক আগে সেনা অভ্যুত্থান হয় মিয়ানমারে। রাতারাতি সুচির হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে নতুন শাসন প্রতিষ্ঠা করে সেনা। যা নিয়ে উত্তাল মিয়ানমার। দিকে দিকে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠেছে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে সেনা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে।

সুচির বিরুদ্ধে অনেকগুলি অভিযোগ করেছে সেনা। তিনি সেনার বিরুদ্ধে মানুষকে সংঘবদ্ধ করেছেন বলে অভিযোগ। এছাড়াও করোনাকালে অতিমারীর আইন ভাঙা, অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখা-সহ একাধিক বিষয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। তারই জেরে সোমবার তার বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা হয়। তবে সেনা সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন সুচির বিরুদ্ধে অনেকগুলি মামলা চলছে। তার রায় এখনো ঘোষণা হয়নি। মনে করা হচ্ছে, অন্য মামলার রায় বের হলে সুচির শাস্তি আরো বাড়তে পারে। বাকি জীবন তাকে জেলেই কাটাতে হতে পারে।

বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

সুচির শাস্তি ঘোষণা হওয়ার পরে নিন্দার ঝড় উঠেছে বিশ্ব জুড়ে। ”সুচির বিরুদ্ধে কতগুলি বোকা বোকা বোগাস মামলা করা হয়েছিল।” প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সুচির শাস্তি ঘোষণা হওয়ার পরেই এই বিবৃতি প্রকাশ করেছে তারা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিক জোসেপ বরেল নিন্দা করে বলেছেন, এই শাস্তি রাজনৈতিক। ইউরোপীয় ইউনিয়নর তরফে অবিলম্বে সুচির মুক্তির দাবি করা হয়েছে। বস্তুত, প্রয়োজনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরো কড়া নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দিয়ে রেখেছে ইইউ।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, সুচির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে। তার বিচারও এক প্রহসন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য, বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করতেই সুচির বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

মিয়ানমারের পরিস্থিতি

সুচির শাস্তি যখন ঘোষণা হচ্ছে, কার্যত গোটা মিয়ানমারেই তখন আগুন জ্বলছে। ইয়াঙ্গন সহ সর্বত্র পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন গণতন্ত্রপন্থিরা। সেনা তাদের উপর চড়াও হলেও আন্দোলন থামানো যাচ্ছে না। মঙ্গলবারও দেশ জুড়ে বিক্ষোভহবে বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

               

সর্বশেষ নিউজ