২৬, ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, সোমবার
     

তালেবানের কাবুল দখলের নতুন তথ্য জানালেন হামিদ কারজাই

তালেবানের হাতে কাবুলের পতন নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আনলেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তালেবান আফগানিস্তানের রাজধানী দখল করেনি, তাদেরকে আমন্ত্রণ করে নেওয়া হয়েছিল এবং তিনি নিজেই সেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের কাছে (এপি) আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই তার উত্তরসূরি প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির দেশ ত্যাগের গোপন কিছু তথ্য জানিয়েছেন।

কারজাই জানিয়েছেন, আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান, তার নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও পালিয়ে যান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বিসমিল্লাহ খানের কাছে ফোন করে তিনি (কারজাই) জানতে চেয়েছিলেন, সরকারের কারা কারা অবশিষ্ট আছে। বিসমিল্লাহ খান জানিয়েছিলেন, কেউই নেই, এমনকি কাবুলের পুলিশ প্রধানও নেই।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিসমিল্লাহ খান কারজাইয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন- তিনি (কারজাই) দেশ ছাড়তে চান কি না। জবাবে কারজাই দেশ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।

রাজধানী শহরের প্রাণ কেন্দ্রের বাসায় বৃক্ষশোভিত মেঝেতে বসে বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানের দীর্ঘ ১৩ বছর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা হামিদ কারজাই বলেন, আশরাফ গনি পালিয়ে যাবার এক মিনিট আগ পর্যন্ত তিনি তালেবানের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির আলোচনায় বসতে সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। তিনিসহ তৎকালীন সরকারের প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ আব্দুলাহও একই অবস্থানে ছিলেন।

কারজাই বলেন, ১৫ আগস্ট তিনিসহ গনি সরকারের ১৫জন প্রতিনিধি তালেবানের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির আলোচনা করতে কাতারে যেতে সম্মত হন। এর মধ্যে তালেবান রাজধানী কাবুলের উপকণ্ঠে অবস্থান করছিল।

তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আশরাফ গনি সরকার তাদের অবস্থান ঠিক রাখুক। কাবুল দখলের কোনো ইচ্ছা তাদের (তালেবানের) নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সেনারাও শক্ত অবস্থানে ছিল।

কিন্ত বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে জানা যায়, আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তখন তিনি (হামিদ কারজাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বিসমিল্লাহ খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কাবুলের পুলিশ প্রধানকে ফোন করেন। কিন্তু তারাও সবাই তার আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

হামিদ কারজাই বলেন, রাজধানীতে সরকারের কোনো কর্মকর্তা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে আশরাফ গনির নিজস্ব প্রতিরক্ষা ইউনিট হামিদ কারজাইকে প্রেসিডেন্ট প্যালেসে গিয়ে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে বলেন। কিন্তু তিনি জানিয়ে দেন, বৈধভাবে তার সে অধিকার নেই। তবে তিনি নিজের ছেলে-মেয়েদের পাশে রেখে টেলিভিশনে জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে সাধারণ মানুষ মনে করে যে, চিন্তার কিছু নেই। এরপর তিনি রাজধানী শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তালেবানকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে আসেন।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ

               

সর্বশেষ নিউজ