১৮, মে, ২০২৪, শনিবার
     

ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি মানুষের ভাগ্যকেও খুন করেছে : টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, স্বাধীনতা বিরোধী ‘ক্ষুদ্র অপশক্তি-চক্রের’ গুটিকয়েক ঘাতক শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি,তারা এ দেশের মানুষের ভাগ্যকে খুন করেছে।

তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারায় বাংলাদেশ সাফল্যের যে জায়গায় পৌঁছেছে, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে দুই-দশক আগেই অর্থাৎ ২০০০ সালের মধ্যে সেখানে পৌঁছে যেত।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট সংলগ্ন বাংলা অ্যাকাডেমির শাহ আব্দুল করিম মিলনায়তনে ‘বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র-সৃষ্টি বিপ্লব ঃ স্বাধীনতার ৫০ বছরে অগ্রগতি ও প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং একইসাথে বিজয়ের ৫০ বছর-পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ মশিউর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘মা, মাটি ও মাতৃভাষা’ এই তিনের সাথে আপস করেননি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হয়নি। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরসূরি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর ২১ বছরের জঞ্জাল অপসারণের মধ্যদিয়ে দেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেয়ার সংগ্রাম শুরু করেন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, অতীতের তিনটি শিল্প বিপ্লব মিস করে প্রযুক্তিতে ৩২৪ বছর পিছিয়ে থাকা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বাংলাদেশকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা ইন্টারনেট শিল্প বিপ্লবে শরীক করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি মোবাইল ও কম্পিউটার প্রযুক্তি জনগণের জন্য সহজলভ্য করার উদ্যোগও নেন। এরই ধারাবাহিকতায় মোবাইলের ২জি প্রযুক্তির পর ২০১৩ সালে থ্রি-জি, ২০১৮ সালে ফোর-জি এবং ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর ৫-জি যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ ভিশনারি রাজনীতিক শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আরো বলেন, ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীতে প্রথম ফাইভ-জি চালু হওয়ার মাত্র দু‘বছরের ব্যবধানে ফাইভ-জি প্রযুক্তি’র যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বিশ্বে বাংলাদেশের সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। যা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মহাসড়কে ধাববান অর্থনীতির ইতিবাচক সচলতার বাংলাদেশ এবং ভিশন-২০৪১ অনুযায়ী উন্নত বিশ্বের কাতারে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে অগ্রগতির সমানতালে চলার বাংলাদেশ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ৫০ বছরের বাংলাদেশ বিশ্বে এক অনন্য উচ্চতায় উপনীত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

গঠনমূলক আলোচনায় পুরো অনুষ্ঠানে প্রাণের পরশ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাণবন্ত আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ফুটে উঠে লাল-সবুজের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। অনুষ্ঠান শেষে ‘বাংলাদেশ ঃ সংগ্রাম সিদ্ধি মুক্তি’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সূত্র : বাসস

               

সর্বশেষ নিউজ