২৯, মে, ২০২৪, বুধবার
     

রাজস্থানে পানির জন্য হাহাকার

জলবায়ু পরিবর্তন ভারতের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে। প্রবল তাপপ্রবাহে পুড়ে অঙ্গার ভারতের মরুরাজ্য রাজস্থান। এখানে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। এ অবস্থায় নেমে গেছে পানির স্তরও। যোধপুরের আনুমানিক ১৬ লাখ মানুষের হাহাকার শুধু পানির জন্যই। এ মানুষগুলোর পানির চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ করে একটি বিশেষ ট্রেন। গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এই জেলার লাখ লাখ মানুষের জন্য পানি নিয়ে আসে ওয়াগন ট্রেন। এটিই এখন জেলার মানুষের পানির একমাত্র উৎস। ট্রেনের অপেক্ষায় প্রতিদিনই বালতি, কলসি আর বিবিধ পাত্র হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর এদেরই একজন ১৩ বছর বয়সি কিশোর আফরোজ। পানির ট্রেন ধরতে প্রতিদিনই স্কুল মিস করতে হয় তাকে। এএফপি।

‘এখানে সবসময় গরম থাকে। আমরা বরাবরই পানির জন্য সংগ্রাম করে আসছি’- বলল আফরোজ। প্রতিদিন জড়ো হওয়া লোকেরা (অধিকাংশই নারী এবং শিশু) প্লাস্টিকের জার, ক্যান কিংবা ধাতব পাত্র নিয়ে অপেক্ষায় থাকে কখন ট্রেনটি আসবে-জানায় কিশোরটি। আর্মি-সবুজ রঙের ট্রেন থেকে পানি পেলে তবে তাদের ভূগর্ভস্থ ট্যাংকে নিয়ে ঢালেন। বাড়িতে পানি আছে কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় পরিবারগুলোর শিশু-কিশোররা স্কুল এড়াতে বাধ্য হয়। আর এটাই তাদের জীবনের বড় আঘাত।

অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র ভরতে গিয়ে আফরোজের মা নূরজাহান বলেন, ‘আমি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে এ কাজে সাহায্য করতে বলতে পারি না। কর্তা খাবারের জন্য এবং আমরা পানির জন্য সংগ্রাম ভাগাভাগি করছি।’ তিনি বলেন, ‘যদিও আমার সন্তানের শিক্ষার ওপর প্রভাব পড়ছে। কিন্তু কী করব? আমি নিজে এসব পাত্র বহন করতে পারি না। আমরা আসলে পরিস্থিতির শিকার।’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ার লাখ লাখ মানুষ গ্রীষ্মের প্রথম দিকেই তাপপ্রবাহের আগুনে পুড়ছে। উষ্ণতম মার্চের রেকর্ড হয়েছে ভারতে। সম্প্রতি আন্তঃসরকারি প্যানেল অন ক্লাইমেট চেইঞ্জ (আইপিসিসি) ল্যান্ডমার্ক রিপোর্টে বলেছে, ‘ভারত ও পাকিস্তানে দীর্ঘ সময়কালের জন্য আরো তীব্র তাপ তরঙ্গে ভূগতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।’ তাপের শিকারে পরিণত হওয়া ভারতের কৃষিব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহের শূন্যতা পূরণের অংশ হিসাবে শুক্রবার গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত।

               

সর্বশেষ নিউজ