২৩, মে, ২০২৪, বৃহস্পতিবার
     

আসামে ট্রাইব্যুনালের জাঁতাকলে লাখের বেশি বাঙালি

ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে আসামের লাখের বেশি বাঙালিকে। ২৭৩ জন ট্রাইব্যুনাল সদস্যের হাতে নির্ভর করছে তাদের ভাগ্য। আসাম সরকারের পক্ষ থেকে গৌহাটি হাইকোর্টকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী গত অর্থবছরে মাত্র পনেরো হাজার ২০১টি মামলার নিষ্পত্তি করেছে ট্রাইব্যুনাল। প্রতি মাসে গড়ে এক হাজার ২৬৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয় ট্রাইব্যুনালে।

অভিযোগ উঠেছে যে, বহুক্ষেত্রে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে বাঙালিদের। সেইসাথে বিচারের নামে প্রচুর টাকার লেনদেন হয় এই ট্রাইব্যুনালগুলোতে। তাই দাবি উঠেছে, ক্যোয়াশি এই বিচারের বদলে আইনি বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকত্বের ফয়সালা করতে হবে। ৩০ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা আছে।

আসামে বিদেশী নাগরিক খুঁজতে জেলায় জেলায় রয়েছে সীমান্ত পুলিশ। এই সীমান্ত পুলিশের সন্দেহ তালিকার বিচার করার জন্যই রয়েছে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল (এফটি)। ট্রাইব্যুনালের সদস্যরাই নাগরিকত্ব যাচাই করেন অভিযুক্তদের। রাজ্যে ১০০টি ট্রাইব্যুনাল ছিল। আসাম সরকার হাইকোর্টকে জানিয়েছে, গত সাত মাসে নতুন করে আরো ১৭৩ জন এফটি সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।

সরকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এক লাখ ৩৪ হাজার ৩৬৫টি মামলা এফটির আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে ফয়সালা বাকি রয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ১৬৪টি অভিযোগের।
এদিকে, এফটিগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন আসামের বাঙালিরা। তাদের অভিযোগ, একতরফাভাবে গরিব মানুষদের বিরুদ্ধে রায় দিচ্ছেন এফটি সদস্যরা। আপাদমস্তক তারা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত বলেও অভিযোগে সরব অনেকে।

আসামের নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমন্বয় সমিতি (সিআরপিসিসি)-এর অভিযোগ, উগ্র বাঙালি-বিদ্বেষ কাজ করছে এফটি সদস্যদের মধ্যে। এমনকি, সরকারের বেঁধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য এফটি সদস্যরা সাধারণ বাঙালিদের হয়রানি করছেন বলেও সিআরপিসিসির কো-চেয়ারম্যান সাধন পুরকায়স্থ অভিযোগ করেছেন।

সূত্র : আজকাল

               

সর্বশেষ নিউজ