২৯, মে, ২০২৪, বুধবার
     

সিরাজদিখানে ৪ বছরেও শেষ হয়নি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

সিরাজদিখান(মুন্সিগঞ্জ)প্রতিনিধি:

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ঠিকাদারের গাফিলতিতে চার বছরেও শেষ হয়নি লতব্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ। পুরাতন ভবন ও কক্ষ সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগসহ নানাভাবে যোগাযোগ করেও মেলেনি কোনো সুফল।

 

বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লতব্দী মাধ্যমিক   বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৫০ জন। বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ও কক্ষ সংকট থাকায় গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে একটি ভবন নির্মাণ করতে বলা হয়। এ জন্য  ৮৫ লক্ষ টাকাও বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর পর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ঢাকার মেসার্স হেদায়েত উল্লাহ এন্ড কোং নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই ভবন নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায়। তখন প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করার চার বছর অতিবাহিত হয়ে এখনও কাজটি অসম্পন্ন রয়ে গেছে। ভবন নির্মাণে এত দীর্ঘ সময় লাগায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।



বুধবার  সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। স্কুলের মাঠে ও ভবনের কক্ষের সামনে পড়ে আছে নির্মাণ সামগ্রী।



বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, এতদিনেও নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। এ কারণে পুরাতন ভবনে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে  আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এতে আমাদের পাশাপাশি স্যারদেরও অনেক সমস্যা হচ্ছে। তাই দ্রুতই নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন বলেন, আমি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ভবন নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বার বার অনুরোধ করছি। জরাজীর্ণ পুরাতন ভবন আর টিনসেট কক্ষে ক্লাস নিতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। এছাড়া সেখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। আর মাঠে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখায় শিক্ষার্থীরা সেখানে খেলাধুলাও করতে পারছে না। 

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহাবুব হোসেন রন্টু বলেন, ৪ বছর ধরে বিদ্যালয়ের কাজ অসম্পূর্ণ করে রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একাধিক বার লিখিত মৌখিক অভিযোগ করেও কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া ভবন নির্মাণে একেবারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা সহ সিডিউলের ড্রয়িং বহিরভূত হবে ভবন নির্মাণ কাজটি করা হচ্ছে। 

 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স হেদায়েত উল্লাহ এন্ড কোং এর সাথে একাধিক বার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। 



সিরাজদিখান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, প্রয়োজনীয় শ্রেণীকক্ষের অভাবে শিক্ষা ক্ষেত্রে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আমার জোর দাবি সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক নির্মাণ কাজ শেষ করে দ্রুত হস্তান্তর করা হোক।

               

সর্বশেষ নিউজ